শ্মশানের সামনে ভূতের উদ্দাম নাচ! ৪৮ বছরের ঐতিহ্য মেনে কালীপুজোর পর গা ছমছমে রেওয়াজ পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায়

কালীপুজোর পরের দিন মানেই এখানকার এক অন্য মেজাজ! পিছনে সুউচ্চ শ্মশান কালীর মূর্তি, আর সামনেই ভূত-প্রেত-শাকচুন্নিদের উদ্দাম নৃত্য। প্রতি বছর এই রীতি মেনেই উৎসবের আনন্দে মাতেন হাজার হাজার মানুষ। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় দীর্ঘ প্রায় ৪৮ বছর ধরে এই গা ছমছমে ‘ভূতের নাচ’ হয়ে আসছে।
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে কালীপুজো অন্যতম। আর পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় শ্মশান কালী পুজোর অন্যতম বিশেষত্বই হলো এই ‘ভূতের নাচ’। বেলদার ‘যুবশক্তি ক্লাব’-এর আয়োজনে সুউচ্চ দেবী কালীর মূর্তি তৈরি করে পূজার্চনা করা হয়। তার ঠিক পরের দিন থেকে শুরু হয় এই অভিনব আয়োজন।
ক্লাবের পিছনেই বেলদার শ্মশান চত্বর। শ্মশানের প্রাচীরকেই ডাল-পালা এবং নানা আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সেখানেই ভূত-প্রেত, ব্রহ্মদৈত্যি-সহ একাধিক ‘ভূতে’র সাজে সজ্জিত হয়ে নাচ পরিবেশন করে এলাকার কচিকাঁচারা। সঙ্গে থাকে বাহারি আলোকসজ্জা এবং সাউন্ড সিস্টেমের ঝলক।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশ কয়েক দশক ধরে ক্লাবে এই রীতি রয়েছে। বিপরীতেই দক্ষিণা কালিকার মন্দির, পাশে শ্মশান। এই চত্বরেই পুজোর পর ভূতের নাচের আয়োজন করা হয়। প্রায় দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে এই রীতিতে কোনো বদল আসেনি।
বছরে মাত্র দু’দিনের এই ভূত নাচ দেখতে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ বেলদার এই শ্মশান চত্বরে ছুটে আসেন। এই বছরও প্রথম দিনেই কয়েক হাজার মানুষের ভিড় ছিল। আট থেকে আশি সকলে মিলে এই আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন এবং মন ভরে ছবি ও ভিডিও তোলেন।