বাংলাদেশের $৮০০ মিলিয়ন ঋণ স্থগিত করল IMF, নতুন সরকার গঠন না হলে মিলবে না কিস্তি, ইউনূস প্রশাসনের ওপর চাপ

বাংলাদেশের আর্থিক সংকটে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আর কোনো ঋণের কিস্তি দেবে না। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান মহম্মদ ইউনূসের প্রশাসনের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
বন্ধ হলো $৮০০ মিলিয়নের কিস্তি
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে IMF বাংলাদেশকে মোট ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল। এর মধ্যে দেশটি পাঁচ দফায় প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। ষষ্ঠ কিস্তি হিসেবে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬,৭২০ কোটি টাকা) ডিসেম্বরে পাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু IMF জানিয়েছে, নতুন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে কি না, তা সংস্থাটি জানতে চায়। সরকার পরিবর্তনের পর নতুন নেতৃত্বের নীতি ও প্রতিশ্রুতি পর্যালোচনা করেই পরবর্তী কিস্তি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত: এটি কি ‘শর্ত মানানোর কৌশল’?
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত IMF ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মন্সুর। তাঁর মতে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার স্থিতিশীল থাকায় এই মুহূর্তে ঋণ না পেলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।
তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, IMF আসলে নির্বাচনের আগে তাদের শর্ত মানানোর জন্য চাপ তৈরি করছে।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, IMF অতিরিক্ত কঠিন শর্ত চাপলে বাংলাদেশ তা মানবে না, কারণ দেশ এখন আর চরম আর্থিক সংকটে নেই।
অন্যান্য অর্থনীতিবিদদের মত: কিস্তি স্থগিত রাখা একটি কৌশল, যাতে বিশ্বকে জানানো যায়—বাংলাদেশ এখনও IMF-এর নির্ধারিত সংস্কার কর্মসূচি পুরোপুরি পালন করছে না।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনের আগেও IMF একইভাবে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল এবং ২০২২ সালে তাদের শর্ত মেনে সরকারকে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়াতে হয়েছিল।
২৯ অক্টোবর ঢাকায় IMF প্রতিনিধি দল
জানা গিয়েছে, IMF-এর একটি প্রতিনিধি দল আগামী ২৯ অক্টোবর ঢাকায় পৌঁছাবে। দুই সপ্তাহের সফরে তারা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবে এবং শর্তপূরণের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ষষ্ঠ কিস্তি মুক্তি পাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে IMF সদর দফতর।
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার ৩২.১৪ বিলিয়ন ডলার রয়েছে। প্রবাসী আয়ে ও রপ্তানিতে কিছুটা উন্নতি এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকায় অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকার কাজ করছে। তবে IMF-এর এই নতুন সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিসরে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ বেড়ে গেল।