বিগ বি, রাজেশ খান্নার সঙ্গে অভিনয় করেছেন আসরানির স্ত্রী! পর্দার আড়ালে কেমন ছিল তারকা দম্পতির জীবন?

গত ২০ অক্টোবর ৮৪ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের প্রবীণ কৌতুক অভিনেতা গোবর্ধন আসরানি (Govardhan Asrani)। ‘শোলে’ ছবিতে তাঁর কালজয়ী ‘জেলার’-এর ভূমিকাটি আজও হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। প্রায় ৩৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করে যাওয়া এই কিংবদন্তি অভিনেতার প্রয়াণ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার সম্পর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যে স্ত্রী ছিলেন ক্যামেরার সামনে
বিস্ময়ের বিষয়, আসরানি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে সর্বদা ক্যামেরার ঝলকানি থেকে দূরে রেখেছিলেন। খুব কম লোকই জানেন যে তাঁর স্ত্রী মঞ্জু আসরানি (Manju Asrani) নিজেও একজন অভিনেত্রী ছিলেন। সত্তরের দশকে তিনি রাজেশ খান্না, অমিতাভ বচ্চন-এর মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন।

এই দম্পতি ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এক সঙ্গে পথ হেঁটেছেন। সংবাদমাধ্যম থেকে দূরে থেকে তাঁরা পারিবারিক জীবনকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।

শুরু ‘নমক হারাম’-এর সেটে
মঞ্জু আসরানির আসল নাম মঞ্জু বনসল। তিনি ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে চলচ্চিত্র শিল্পের অংশ ছিলেন। ‘আজ কি তাজা খবর’ ছবির সেটে তাঁদের প্রেমের গল্পের শুরু। এরপর অমিতাভ বচ্চন ও রাজেশ খান্না অভিনীত ‘নমক হারাম’ ছবির সেটে তাঁদের বন্ধুত্ব গভীর প্রেমে পরিণত হয়, যা পরবর্তীতে তাঁদের সারা জীবনের বন্ধন তৈরি করে।

মঞ্জু আসরানি অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে ‘কবীল’, ‘উধার কা সিন্দুর’, ‘তপস্যা’, ‘চাঁদি সোনা’ এবং ‘চোর সিপাহী’।

১৯৯০-এর দশকে মঞ্জু অভিনয় ছেড়ে ক্যামেরার পিছনে পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই সময় তিনি স্বামীর কেরিয়ারকে সমর্থন করার জন্য লাইমলাইট থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করতেন।

সন্তান নিয়ে ধোঁয়াশা
আসরানি দম্পতির সন্তান নিয়ে বিভিন্ন রিপোর্ট রয়েছে। ‘নবভারত টাইমস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, গোবর্ধন আসরানি এবং মঞ্জু আসরানির কোনো সন্তান ছিল না। তবে, অন্যান্য প্রতিবেদন এবং উইকিপিডিয়া অনুসারে তাঁদের নবীন আসরানি নামে এক ছেলে আছেন, যিনি পেশায় একজন দন্ত চিকিৎসক। আসরানির পরিবারের মধ্যে তাঁর বোন এবং ভাইপোরাও রয়েছেন।

বলা বাহুল্য, প্রবীণ এই অভিনেতার মৃত্যুতে বলিউড এক প্রতিভাকে হারালো, কিন্তু তাঁর ফেলে যাওয়া কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের সরলতা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রশংসিত হবে।