‘বাজি-নাড়া’র জোড়া ফলায় বিষাক্ত দিল্লি: দীপাবলির সকালেই AQI ‘ভয়ানক’, কেন নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে রাজধানীতে?

দীপাবলি উপলক্ষে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যাপক হারে বাজি ফাটানোর ফলস্বরূপ মঙ্গলবার সকালে দেশের রাজধানী দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকাগুলো ঘন ধোঁয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। তাপমাত্রা হ্রাস, বাতাসের ধীর গতি এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে চলমান ‘নাড়া পোড়ানো’ (Stubble Burning)-এর সঙ্গে বাজির নির্গমন মিশে পরিস্থিতিকে চরম সঙ্কটাপন্ন করে তুলেছে। দিল্লির বাতাসের গুণমান সূচক (AQI) “খুব খারাপ” (Very Poor) থেকে “ভয়াবহ” (Hazardous) ক্যাটেগরিতে নেমে গেছে।
‘গুরুতর’ স্তরে বাতাসের মান
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (CPCB) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৫.৩০ মিনিট নাগাদ দিল্লির গড় AQI ছিল ৩৪৬, যা “খুব খারাপ” শ্রেণিতে পড়ে। তবে, বেশ কিছু এলাকা ইতিমধ্যেই ‘গুরুতর’ (Severe) থ্রেশহোল্ড ৪০০ পেরিয়ে গেছে:
ওয়াজিরপুর (Wazirpur)
অশোক বিহার (Ashok Vihar)
আনন্দ বিহার (Anand Vihar)
জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে (NCR) নয়ডা এবং গাজিয়াবাদেও AQI মাত্রা ৪১০-এর উপরে রিপোর্ট করা হয়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বিবেচিত। কর্তৃপক্ষ এই অবনতির আশঙ্কা করলেও, বাস্তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
সবচেয়ে দূষিত এলাকা (AQI অনুযায়ী)
যদিও প্রদত্ত সংবাদে সবচেয়ে দূষিত ১০টি স্থানের সুনির্দিষ্ট তালিকা এবং AQI উল্লেখ করা হয়নি, তবে CPCB-এর তথ্য অনুযায়ী, ওয়াজিরপুর, অশোক বিহার এবং আনন্দ বিহারে বাতাসের গুণগত মান ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে।
সকালবেলা দিল্লির শীর্ষ দূষিত এলাকাগুলো (আনুমানিক AQI ৪১০+): ১. আনন্দ বিহার (Anand Vihar) ২. ওয়াজিরপুর (Wazirpur) ৩. অশোক বিহার (Ashok Vihar) ৪. নয়ডা (Noida) ৫. গাজিয়াবাদ (Ghaziabad) (দ্রষ্টব্য: এটি মূল খবরে উল্লিখিত স্থানগুলির ভিত্তিতে তৈরি একটি ক্রম, যেখানে AQI ৪০০-এর উপরে রিপোর্ট করা হয়েছে।)
জরুরি পদক্ষেপ: GRAP II জারি
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি-এনসিআর জুড়ে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের (GRAP) দ্বিতীয় পর্যায় জারি করা হয়েছে। এর অধীনে নেওয়া জরুরি ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
জরুরি পরিষেবা ছাড়া ডিজেল জেনারেটর সেট ব্যবহার নিষিদ্ধ।
যান্ত্রিক উপায়ে রাস্তা পরিষ্কার এবং জল ছিটানোর কাজ বাড়ানো।
খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো এবং নির্মাণ ও ভাঙার কাজ বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা।
তবে, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বৃহত্তর জনসমর্থন এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রচেষ্টা ছাড়া এই জরুরি ব্যবস্থাগুলো স্বল্পমেয়াদে সীমিত স্বস্তি দিতে পারে।
স্বাস্থ্য সতর্কতা
বাতাসের গুণমান “খুব খারাপ” থেকে “গুরুতর” সীমার মধ্যে থাকায় এটি শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। চিকিৎসকরা বাসিন্দাদের পরামর্শ দিয়েছেন:
বাইরের ক্রিয়াকলাপ এড়িয়ে চলুন।
বাইরে বেরোলে N95 মাস্ক ব্যবহার করুন।
বাড়ির ভিতরে সম্ভব হলে এয়ার পিউরিফায়ার চালু রাখুন।