ট্রাম্পের এশিয়া ‘ট্যুর’: শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে রফা হবে? মালয়েশিয়া-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার আগে হঠাৎ চীন সফরের ইঙ্গিত!

আমেরিকা-চীন বাণিজ্য সংঘাতের মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে মিশ্র ইঙ্গিত। এক দিকে সুসম্পর্কের বার্তা, অন্যদিকে নভেম্বরের আগেই চূড়ান্ত চুক্তির কড়া হুঁশিয়ারি!
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) একদিকে চীনকে ‘ভালো’ রাখতে চাওয়ার কথা বললেন, আবার অন্যদিকে শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হলে আগামী ১ নভেম্বর থেকে চীনা পণ্যের উপর শুল্ক ১৫৫ শতাংশে পৌঁছে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের (Anthony Albanese) সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী বছরের প্রথম দিকেই তিনি চীন সফরে যেতে পারেন। একই সঙ্গে চলতি মাসের শেষ দিকে তিনি মালয়েশিয়া, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া সফর করবেন। এই এশিয়া সফরের অংশ হিসেবেই দক্ষিণ কোরিয়ায় (South Korea) প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
“আমি চীনকে ভালো রাখতে চাই, শি’র সঙ্গে সম্পর্ক দারুণ”
আমেরিকা-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট জানান, দুই দেশের মধ্যে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত চুক্তি’ (fair deal) চান তিনি। তাঁর কথায়, “আমি চীনকে ভালো রাখতে চাই। প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে আমার সম্পর্ক দারুণ।” তাঁর আশা, চীনের সঙ্গে একটি ‘দুর্দান্ত বাণিজ্য চুক্তি’ হতে চলেছে।
কিন্তু ঠিক এর পরেই তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “আমরা একটা ন্যায্য চুক্তি করতে চলেছি। যদি তারা আমাদের সঙ্গে ব্যবসা না করতে চায়, তবে চীন বড় বিপদে পড়বে।” যদিও তিনি দ্রুত যোগ করেন, “আমি চাই না তারা বিপদে পড়ুক। আমি চাই তারা উন্নতি করুক। আমরা একসঙ্গে উন্নতি করতে চাই। এটা দু’তরফের রাস্তা।”
নভেম্বরেই শুল্ক হবে ১৫৫%? ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, বর্তমানে চীন শুল্ক বাবদ আমেরিকাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিচ্ছে, যা বর্তমানে ৫৭ শতাংশ। কিন্তু চলমান বাণিজ্য বিরোধের যদি নভেম্বরের মধ্যে কোনো সমাধান না হয়, তবে এই শুল্কের হার বেড়ে ১৫৭ শতাংশে পৌঁছবে। উল্লেখ্য, এই উত্তেজনার মধ্যেই গত ৯ অক্টোবর চীন বিরল খনিজের (rare-earth minerals) রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে, যা আমেরিকান শিল্পে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
ট্রাম্পের এই সফরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংজু শহরে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (APEC) সম্মেলনে (অক্টোবর ৩১- নভেম্বর ১) শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নির্ধারিত আছে। এর আগে, ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ৪৭তম আসিয়ান (ASEAN) শীর্ষ সম্মেলনেও যোগ দেবেন তিনি। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই সপ্তাহান্তেই মালয়েশিয়ায় চীনা ভাইস প্রিমিয়ার হে লাইফেংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা, যা দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের পথ প্রশস্ত করবে।
বাণিজ্যযুদ্ধ বাড়বে, নাকি ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে বরফ গলবে— সেদিকেই এখন নজর সকলের।