কেন পিছিয়ে ভারত? RSS প্রধান মোহন ভাগবতের দাবি, জ্ঞান এবং ঐতিহ্যের দিকে ফিরলেই ফের বিশ্বগুরু হবে দেশ

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত রবিবার দেশের অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টিকারীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দেশকে দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে ভারতীয় শিকড় এবং জ্ঞান ব্যবস্থার দিকে ফিরে আসার এবং মনকে ‘বিদেশি প্রভাব’ থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। (সূত্র: লোকমত টাইমস)

মুম্বইয়ে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, “এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের একটি নতুন পথের প্রয়োজন, আর ভারতের কাছে সেই পথ আছে। সেজন্যই বিশ্ব আমাদের কাছ থেকে এটি প্রত্যাশা করে। কিছু লোক আমাদের অগ্রগতিতে বাধা দিচ্ছে… তার জন্য শান্তিও জরুরি।”

‘মেকলে জ্ঞান পদ্ধতি’ (Macaulay Knowledge System)-এর সমালোচনা
মোহন ভাগবত ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ মেকলের প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা, যা ‘মেকলে জ্ঞান পদ্ধতি’ (MKS) নামে পরিচিত, তার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে এই ব্যবস্থা ভারতীয়দের মনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে, যার ফলে “আমাদের মন ও মেধা বিদেশিদের মতো হয়ে গেছে।”

ভাগবত ভারতীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্বের বাকি অংশের সাফল্যের রহস্য জানতে হবে এবং সেগুলোর সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে। তবে ঐতিহ্য এবং পরম্পরার দিকে নজর রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, “আমাদের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে গ্রহণ করার পথ প্রশস্ত করতে এবং এর গুরুত্ব বোঝার জন্য আমাদের অবশ্যই সেই বিদেশি প্রভাব থেকে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের মুক্ত করতে হবে।”

আর্যদের জ্ঞান ও মূল্যবোধে ফেরার আহ্বান
মোহন ভাগবত প্রাচীন ভারতীয়দের (যাঁদের তিনি ‘আর্য’ বলে উল্লেখ করেছেন) সদিচ্ছার সঙ্গে দেশের ধন-সম্পদ ও মন-বুদ্ধি লুঠ করা আক্রমণকারীদের কাজের তুলনা করেন।

তিনি বলেন, “যাঁদের উন্নত সংস্কৃতি, জ্ঞান এবং মূল্যবোধ রয়েছে, তাঁদের আর্য বলা হয়। মেক্সিকো থেকে সাইবেরিয়া পর্যন্ত আর্যরা বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা যেখানেই গিয়েছিলেন, সেখানে রাজ্য দখল করেননি বা জোর করে ধর্মান্তরিত করেননি; বরং তাঁরা সভ্যতা, গণিত, আয়ুর্বেদ এবং বিভিন্ন ধরণের শাস্ত্র ভাগ করে নিয়ে অন্যদের সমৃদ্ধ করেছেন।”

‘আর্য যুগ বিষয় কোষ’ (Arya Yug Vishay Kosh) নামক একটি বিশ্বকোষ প্রকাশ করে মোহন ভাগবত বলেন, আধ্যাত্মিক জ্ঞান আজও বিকশিত হচ্ছে এবং ‘আর্যাবর্তের বংশধর’ হিসেবে আমাদের বিজ্ঞান ও অস্ত্র, শক্তি ও সামর্থ্য, বিশ্বাস ও জ্ঞান সব কিছুই রয়েছে।

তিনি বলেন, “পশ্চিমা দেশগুলি যে জ্ঞান দিয়েছে, তা বোঝা ভালো… তবে আমাদের পূর্বপুরুষদের জ্ঞান রক্ষা করা খুব জরুরি… আমাদের শাস্ত্রগুলোই আমাদের সভ্যতার প্রাণ।”

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমাদের ঐতিহ্য ৫০০ বছর ধরে জীবন্ত রয়েছে, এবং আমরা যা ছিলাম, সেই জায়গাটি ফিরে পেতে আমাদের অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে।”