‘শান্তির’ নামে কূটনৈতিক ফাঁদ? ইউক্রেনকে ডোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ দিতে পুতিনের শর্তে ট্রাম্প প্রশাসন ও কিয়েভে তুমুল ঝড়

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সাত মাস পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেওয়া নতুন শর্তে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় উঠেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির যুক্তরাষ্ট্র সফরের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ডোনেৎস্ক অঞ্চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাশিয়াকে দিতে হবে, তাহলেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব।”
তবে এই ‘শর্তযুক্ত শান্তির প্রস্তাব’ ইউক্রেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে এক কূটনৈতিক ফাঁদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনে চাঞ্চল্য:
সূত্র বলছে, ডোনেৎস্কের বিনিময়ে পুতিন আংশিকভাবে জাপোরিঝিয়া ও খেরসন থেকে সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু এই প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যেই চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, পুতিনের প্রস্তাব আসলে এমন এক কৌশল, যেখানে ইউক্রেনের ভূখণ্ড অক্ষুণ্ণ রাখার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।
ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন, ট্রাম্প কি পুতিনের কথায় “শান্তি”র নামে রাশিয়ার দখলদারিত্ব মেনে নিতে চলেছেন? বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তি স্থাপনকারী নেতা’ হিসেবে তুলে ধরার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগাতে চাইছেন পুতিন।
ইউক্রেনের তীব্র প্রতিক্রিয়া:
পুতিনের এই শর্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে কিয়েভ। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে:
“এটা যেন নিজের পা কেটে শত্রুকে উপহার দেওয়ার সমান। ডোনেৎস্ক আমাদের সার্বভৌম ভূখণ্ড, কোনো বিদেশি নেতা তার ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন না।”
জেলেনস্কির আসন্ন মার্কিন সফর এখন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলেনস্কি তাঁর সফরে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে রাশিয়ার এই প্রস্তাব আসলে এক নতুন আগ্রাসনের ছক।
ইউরোপীয় দেশগুলো ক্ষুব্ধ:
ইউরোপীয় দেশগুলোও এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। ফ্রান্স, জার্মানি এবং পোল্যান্ডের একাধিক নেতা একযোগে জানিয়েছেন, রাশিয়ার “এলাকা বদলের” প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্যারিসের এক কূটনীতিক বলেন, “এটা শান্তির পথ নয়, বরং একতরফা দখলের কৌশল।”
অন্যদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া ঝাখারোভা অবশ্য দাবি করেছেন, “ডোনেৎস্ক আমাদের ঐতিহাসিক অঞ্চল, সেখানকার মানুষ রাশিয়ার সঙ্গেই থাকতে চায়।” এই নতুন দাবির ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান আরও দূরে সরে গেল বলে মনে করছেন বিশ্বজুড়ে বিশ্লেষকরা।