কেরালা জুড়ে তুমুল বৃষ্টি: মুল্লাপেরিয়ার বাঁধের জলস্তর বিপদসীমার কাছে! রাতেই খুলে দেওয়া হলো একাধিক গেট, পেরিয়ার নদীর তীরে চরম সতর্কতা

উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কেরালায় গত রাত (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত রাজ্যের মধ্যবর্তী জেলাগুলিতে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইদুক্কি জেলায় প্রবল বৃষ্টির কারণে মুল্লাপেরিয়ার বাঁধের জলস্তর দ্রুত বেড়ে ১৩৮ মিটারে পৌঁছানোর পর কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ১৪টি শাটার খুলে দিয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে রাজ্যের ১১টি জেলায় আবহাওয়া দপ্তর ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করেছে।
ইদুক্কিতে বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি
ভারী বর্ষণের জেরে ইদুক্কির কাট্টাপ্পানা এবং নেদুমকান্দাম-সহ একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নেদুমকান্দাম এলাকায় জলস্রোতে কয়েকটি গাড়ি ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
জলমগ্ন এলাকা: নেদুমকান্দাম, কাট্টাপ্পানা এবং কুমিলির কিছু অংশ জলের নিচে চলে গেছে।
সতর্কতা: পেরিয়ার নদীর উভয় তীরে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে চরম সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার: কুমিলি এলাকা থেকে ইতিমধ্যে ৪২টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বাঁধ থেকে জল ছাড়া শুরু
মুল্লাপেরিয়ার ছাড়াও প্রবল জলস্তর বৃদ্ধির কারণে কাল্লার বাঁধের শাটারও খুলে দেওয়া হয়েছে।
তামিলনাড়ু সরকার পরিচালিত মুল্লাপেরিয়ার বাঁধে জলস্তর ১৯ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৩৭.৮০ ফুট অতিক্রম করেছিল। এর পরই জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অতিরিক্ত জল ছেড়ে দেওয়ার জন্য শনিবার সকাল ৮টা থেকে বাঁধের শাটারগুলি পর্যায়ক্রমে খোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে সর্বাধিক ৫,০০০ কিউসেক জল ছাড়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
১১ জেলায় ইয়েলো অ্যালার্ট
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD) ১৮ অক্টোবর ইদুক্কিসহ আরও কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করে ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ ঘোষণা করেছে। অবিরাম এই বৃষ্টিতেই মুল্লাপেরিয়ার বাঁধের জলস্তর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
জেলার প্রশাসন পেরিয়ার নদীর দু’পারের বাসিন্দাদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে।