ডার্বি ফাইনাল, অথচ ইস্টবেঙ্গল অনুশীলনে মাত্র একজন সমর্থক! ‘মাঠের বাইরের বোঝাপড়া’ নিয়ে আশঙ্কায় লাল-হলুদ জনতা

আইএফএ শিল্ড ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল এফসি এবং মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। অথচ ম্যাচের আগের দিন বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (VYBK) ইস্টবেঙ্গল দলের অনুশীলনে দেখা গেল এক অভাবনীয় চিত্র—উপস্থিত মাত্র একজন সমর্থক!
ওই একজন সমর্থকও ফুটবলারদের কাছাকাছি যেতে পারেননি। যুবভারতীর অনুশীলন মাঠের অনেক দূর থেকেই উঁকিঝুঁকি মেরে প্রিয় দলের অনুশীলন দেখার চেষ্টা করে গেলেন তিনি। লাল-হলুদ শিবিরে এই ছবি অতীতে কেউ কোনো দিন দেখেছেন কি না, তা মনে করতে পারছেন না প্রবীণরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এখন প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন অনেকটাই ভার্চুয়াল হয়ে গেছে। তাছাড়া সকালে যুবভারতীতে পৌঁছনো অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। আবার গেলেও ফুটবলারদের কাছাকাছি যেতে দেন না বাউন্সাররা। এই কারণেই হয়তো অতীতের মতো ফুটবলারদের জড়িয়ে ধরা, টিকিটের আবদার কিংবা বড় ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার দাবি এখন উধাও।
কলকাতা ডার্বির আগে আশঙ্কায় সমর্থকরা
শুক্রবার ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলনে সমর্থকদের অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ অবশ্য অন্য জায়গায়। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ম্যাচটি ‘মাঠের বাইরে’ই মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে জিতিয়ে দেওয়া হতে পারে। সবুজ-মেরুন জনতা বর্তমানে ম্যানেজমেন্ট ও ফুটবলারদের একাংশের উপর ক্ষুব্ধ। তাঁদের শান্ত করতেই মাঠের বাইরে বোঝাপড়ার মাধ্যমে মোহনবাগানকে আইএফএ শিল্ড জেতানো হবে বলে জোর আলোচনা চলছে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মধ্যে। লাল-হলুদ জনতা তাই একরকম হতাশায় ভুগছেন।
খোশমেজাজে ইস্টবেঙ্গল দল
সমর্থকরা মাঠের বাইরের ঘটনা নিয়ে আশঙ্কায় থাকলেও, অনুশীলনে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের কিন্তু খোশমেজাজেই দেখা গেল। জাতীয় দলের হয়ে খেলে ফিরে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন তারকা ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি এবং তরুণ ফরোয়ার্ড নাওরেম মহেশ সিং। দলের বাকিরাও খেলার জন্য প্রস্তুত।
শনিবার জাপানি স্ট্রাইকার হিরোশি ইবুসুকির অভিষেক হতে পারে বলে খবর। দলে আপাতত কারও চোট-আঘাত বা কার্ডের সমস্যা নেই। ফলে প্রধান কোচ অস্কার ব্রুজোঁ সেরা দলই নামাতে পারবেন। তিনি অনুশীলনে দলের সবাইকে ভালোভাবে দেখে নিলেন এবং দলকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য এখন চূড়ান্ত রণকৌশল সাজাচ্ছেন।