মাত্র ২ বছরেই সম্পূর্ণ হবে বেঙ্গালুরু বিজনেস করিডর মেট্রোর জন্য জায়গা রেখে ১১৭ কিমি টোল রোড কীভাবে বদলে দেবে শহরকে?

বেঙ্গালুরু: কর্ণাটক মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার বহু প্রতীক্ষিত পেরিফেরাল রিং রোড (Peripheral Ring Road) প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে, যার নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘বেঙ্গালুরু বিজনেস করিডর’। এই মেগা প্রকল্পটি শহরের যানজট প্রায় ৪০ শতাংশ কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার সাংবাদিকদের জানান, ১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরটি তুমাকুরু রোড থেকে ইয়েলাহাঙ্কা এবং ইলেকট্রনিক সিটির মাধ্যমে মহীশূর রোড পর্যন্ত সংযুক্ত করবে। সরকার প্রকল্পটি মাত্র দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে।

🛣️ ₹২৭,০০০ কোটি টাকা ও নতুন নকশা
বেঙ্গালুরু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BDA)-এর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এটি বর্তমানে NICE রোডের সমান্তরালে চলবে এবং ৬০ মিটার চওড়া টোল রোড হিসেবে তৈরি করা হবে। ভবিষ্যতে এই করিডর দিয়েই মেট্রো রেল চালুর জন্যেও জায়গা রাখা হয়েছে।

অর্থসংস্থান: প্রাথমিকভাবে, সরকার হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (HUDCO) থেকে প্রায় ₹২৭,০০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে, জমি অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে প্রকল্পের মোট খরচ প্রায় ₹১০,০০০ কোটিতে নেমে আসতে পারে বলে জানান শিবকুমার।

নকশা পরিবর্তন: উপ-মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বের নকশায় রাস্তাটি ১০০ মিটার চওড়া করার প্রস্তাব ছিল, কিন্তু বেঙ্গালুরু-মহীশূর এক্সপ্রেসওয়ের মতো এটি এখন ৬০ মিটার চওড়া হবে।

🏘️ জমিদাতাদের জন্য ৪টি বিকল্প, ডাবল ক্ষতিপূরণের সুযোগ
প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণে যাতে কোনো বিলম্ব না হয়, তার জন্য সরকার একাধিক বিকল্প ঘোষণা করেছে।

ক্ষতিপূরণের বিকল্প: জমিদাতাদের জন্য ৪টি বিকল্প রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জমির বাজারদরের দ্বিগুণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ অথবা BDA লে-আউটে ৪০ শতাংশ উন্নত প্লট দেওয়া।

বিবাদপূর্ণ জমি: শিবকুমার জোর দিয়ে বলেন, কোনো জমি ‘ডিনোটিফাই’ (denotified) করা হবে না। কোনো প্লট নিয়ে আইনি বিবাদ থাকলে, ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতে জমা রাখা হবে, যাতে প্রকল্পের কাজ আটকে না যায়।

ছোট জমিদাতারা: তবে, ছোট জমিদাতাদের কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণই দেওয়া হবে।

শিবকুমার আরও জানান, রাস্তা নির্মাণের পর বাকি থাকা অতিরিক্ত জমি ক্ষতিপূরণের অংশ হিসেবে কৃষকদের বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর আশা, “পেরিফেরাল রোড” আগামী দুই বছরের মধ্যে বেঙ্গালুরুর নাগরিক জীবন এবং বাণিজ্যের গতি সম্পূর্ণভাবে পাল্টে দেবে।