সম্পত্তির ‘পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি’: ভুল ধারণা ভাঙুন! কাউকে ক্ষমতা দিলেই কি মালিকানা হাতবদল হয়? আসল আইন জানুন, না-হলে বিপদে পড়বেন!

‘পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি’ (Power of Attorney) শব্দটি শুনলেই সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে অনেকের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে যখন কোনও বন্ধু বা আত্মীয়কে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়, তখন অনেকেই ধরে নেন যে সম্পত্তির আসল মালিকের অধিকার শেষ হয়ে গেল বা মালিকানা পুরোপুরি হস্তান্তরিত হয়ে গেল। কিন্তু আইনগত বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মালিকানা নয়, কেবল ‘কর্তৃত্ব’!
আসলে, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি হল একটি আইনি নথি, যা সম্পত্তির মালিকের পক্ষ থেকে অন্য একজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করার জন্য কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা প্রদান করে। যেমন – সম্পত্তি বিক্রি বা রেজিস্ট্রি করা, ভাড়া তোলা, বা ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত বিষয়গুলি পরিচালনা করা ইত্যাদি। মনে রাখবেন, এটি কোনওভাবেই নিযুক্ত ব্যক্তিকে সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করে না।
কাউকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেওয়া মানে হল, তিনি মালিকের হয়ে আইনি কাজগুলি করতে পারবেন, কিন্তু তিনি সম্পত্তির মালিক হয়ে যাবেন না। সম্পত্তির মালিকানা একমাত্র রেজিস্ট্রিকৃত ‘বিক্রয় দলিল’ (Sale Deed) বা ‘দান দলিল’ (Gift Deed)-এর মাধ্যমেই স্থানান্তরিত হয়।
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কী?
এই বিভ্রান্তি দূর করতে ২০১১ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিল। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মাধ্যমে কেউ সম্পত্তির মালিক হতে পারে না। এটি শুধুমাত্র একটি ‘কর্তৃত্বের নথি’ (Authority Document) যা সীমিত অধিকার দেয়, কিন্তু মালিকানা দেয় না।
কখন কাজে আসে এই আইনি নথি?
পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি মূলত তখনই অত্যন্ত কার্যকর হয় যখন সম্পত্তির আসল মালিক অন্য কোনও শহরে বা বিদেশে থাকেন এবং ব্যক্তিগতভাবে সম্পত্তির বিষয়গুলি পরিচালনা করতে পারেন না। উদাহরণস্বরূপ, দিল্লিতে বসবাসকারী কোনও ব্যক্তি যদি মুম্বাইয়ের সম্পত্তির কাজ সামলানোর জন্য কোনও বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে ক্ষমতা দিতে চান, তখন এই নথি ব্যবহার করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলি মনে রাখা জরুরি:
পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেওয়ার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলিতে অবশ্যই নজর দিন:
রেজিস্ট্রেশন: অবশ্যই নথিটি রেজিস্ট্রি করানো নিশ্চিত করুন।
নির্দিষ্ট কাজ: নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ঠিক কোন কোন কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন। এতে ভবিষ্যতে আইনি বিতর্ক বা সমস্যা এড়ানো যাবে।