‘টেস্ট’-এর ধাঁচে ওডিআই! নতুন ফরম্যাট নিয়ে সচিনের মাস্টারস্ট্রোক, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ৪ ইনিংসের প্রস্তাব কেন দিলেন ‘গড অফ ক্রিকেট’?

ক্রিকেট জগতে এই মুহূর্তে বড় প্রশ্ন, টি-২০-এর ঝড় ও টেস্টের ঐতিহ্যের মাঝে ৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচের (ODI) ভবিষ্যৎ কী? যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে কি ৫০ ওভারের ক্রিকেটে পরিবর্তন আনা জরুরি? এই পরিস্থিতিতেই ওয়ানডে ফরম্যাটকে আরও আকর্ষণীয় এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে দীর্ঘদিনের একটি বৈপ্লবিক প্রস্তাবের কথা পুনরায় তুলে ধরলেন স্বয়ং ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’ সচিন তেন্ডুলকর।
বোরিং ও প্রেডিক্টেবল হচ্ছে ODI?
সচিন তেন্ডুলকর মনে করেন, ৫০ ওভারের বর্তমান ফরম্যাট ‘একঘেয়ে’ (Monotonous) এবং ‘খুব সহজেই অনুমান করা যায়’ (Predictable) হয়ে উঠছে। বিশেষ করে খেলার ১৫ ওভার থেকে ৪০ ওভারের মধ্যবর্তী সময়ে ম্যাচের আকর্ষণ কমছে। এই পরিস্থিতিতে দর্শকদের ধরে রাখতে এবং খেলার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে তিনি বহু বছর আগেই একটি নতুন কাঠামো প্রস্তাব করেছিলেন— যা অনেকটাই টেস্ট ম্যাচের মতো।
সচিনের নতুন ফর্মুলা: চার ইনিংসের খেলা!
মাস্টার ব্লাস্টারের প্রস্তাবিত এই ফরম্যাট অনুযায়ী, ৫০ ওভারের ম্যাচকে দুটি ইনিংসে ভাগ না করে চারটি ইনিংসে ভাগ করা উচিত। অর্থাৎ, প্রতিটি দল ২৫ ওভার করে দুবার ব্যাটিং করবে।
দল A: প্রথম ২৫ ওভার ব্যাটিং করবে।
দল B: প্রথম ২৫ ওভার ব্যাটিং করবে।
দল A: বাকি ২৫ ওভার ব্যাটিং করবে।
দল B: বাকি ২৫ ওভার ব্যাটিং করে লক্ষ্য তাড়া করবে।
কেন এই পরিবর্তন? ৩টি প্রধান কারণ:
১. টস-এর সুবিধা কমবে: এই ফরম্যাটে টস জিতে নেওয়া সুবিধা অনেকাংশে কমে যাবে। বিশেষ করে যেখানে শিশির বা মাঠের অবস্থার পরিবর্তন বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে দুই দলই প্রায় সমান পরিস্থিতিতে খেলার সুযোগ পাবে।
২. রিভার্স সুইং ফিরবে: সচিনের মতে, বর্তমান নিয়মে দুটি নতুন বল ব্যবহার করায় রিভার্স সুইং পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। একটি নতুন বল যখন ৪০ ওভার পর্যন্ত পুরনো হয়, তখন সুইংয়ের সুযোগ থাকে। কিন্তু দুটি নতুন বল ব্যবহার করলে একটি বল সর্বোচ্চ ২০ ওভার পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়, ফলে বোলাররা ন্যাচারাল সুইংয়ের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। চার ইনিংসে ভাগ করলে বলের ব্যবহার ও পুরনো হওয়ার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে।
৩. বাণিজ্যিক সুবিধা: চার ইনিংসে খেলার সুযোগ তৈরি হলে ইনিংসের ব্রেক বা বিরতিও বাড়বে, যা সম্প্রচারকারী সংস্থা এবং বিজ্ঞাপনের দিক থেকে আরও বেশি লাভজনক হবে বলে মনে করেন সচিন।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৫০ ওভারের ফরম্যাটকে পুনরুজ্জীবিত করতে সচিনের এই ‘চার-ইনিংস’ তত্ত্ব একটি গেম-চেঞ্জার হতে পারে। এখন দেখার, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ICC কি এই কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে বড় কোনও পরিবর্তন আনে কিনা।