‘ও একজন পারফর্মার, কিন্তু সমস্যা ছিল খুবই বড়’: কেন সেটে দেরিতে আসতেন গোবিন্দা? মুখ খুললেন রজত বেদি, ফাঁস হলো ‘জোড়ি নং ১’ ছবির সেই গোপন ঘটনা!

নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় এবং অত্যন্ত ব্যস্ত তারকা ছিলেন গোবিন্দা (Govinda)। তবে তাঁর প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ না থাকলেও, সেটে দেরি করে আসার কারণে তাঁর খ্যাতি বলিউডে ছিল সর্বজনবিদিত। সম্প্রতি কাজল এবং টুইঙ্কল খান্নার একটি শো-তে এসে এই পুরোনো অভিযোগ নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন অভিনেতা। তিনি সাফ জানালেন, দেরি করে আসার জন্য তাঁকে বলিউডে ‘বদনাম’ (Defame) করা হয়েছে এবং এর পেছনে তাঁর কাজের চাপই প্রধান কারণ ছিল।

“কার বাপের ক্ষমতা আছে ৫ শিফট সামলে সময়মতো আসার?”
শো-তে গোবিন্দা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাবে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন:

“আমি বদনাম হয়েছি যে আমি সময়মতো আসি না। আমি বলেছি, ‘কার বাপের মধ্যে ক্ষমতা আছে যে সে ৫ শিফট করে এবং সময়মতো আসে?’ এটা সম্ভবই নয়, হতেই পারে না। একজন মানুষ এত বেশি শুটিং কীভাবে করবে? এখানে তো অনেকে একটা ছবি করেই ক্লান্ত হয়ে যায়।”

গোবিন্দা দাবি করেন, তিনি প্রতিদিন একাধিক শিফটে কাজ করতেন এবং একই সঙ্গে এতগুলি ছবির শুটিং সামলানোর কারণেই সামান্য দেরি হতো। কিন্তু গসিপ মহল এই বিলম্বকে ‘বাড়াবাড়ি’ করে বড় শিরোনাম বানিয়েছে। তাঁর মতে, বলিউডে একে অপরের সম্মান করা এবং সমর্থন করা উচিত, এভাবে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া উচিত নয়।

‘জোড়ি নং ১’ সেটে সঞ্জয় দত্তের ৯ ঘণ্টার অপেক্ষা!
এদিকে, অভিনেতা রজত বেদি সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ‘জোড়ি নং ১’ ছবির সেটের একটি বিতর্কিত ঘটনা সামনে এনেছেন। যেখানে গোবিন্দার জন্য সহ-অভিনেতা সঞ্জয় দত্তকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

৯ ঘণ্টার অপেক্ষা: রজত বেদি জানান, একবার ‘জোড়ি নং ১’-এর সেটে গোবিন্দার জন্য সঞ্জয় দত্তকে প্রায় ৯ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। গোবিন্দার এই দেরিতে আসায় সঞ্জয় দত্ত এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে তিনি পরিচালক ডেভিড ধাওয়ানকে পুরো দৃশ্যটি পরিবর্তন করতে বলেন।

গোবিন্দা তখন হায়দ্রাবাদে! ৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যখন গোবিন্দা এলেন না, তখন সঞ্জয় দত্ত অত্যন্ত রেগে যান। কিন্তু পরে জানা যায়, গোবিন্দা তখন মুম্বাইয়ে ছিলেনই না, তিনি হায়দ্রাবাদ থেকে সরাসরি সেটে আসার জন্য উড়ছিলেন।

রজত বেদি জানান, “কেউ জানত না যে তিনি হায়দ্রাবাদ থেকে বিকেল ৩টায় সরাসরি সেটে আসছেন। সে সময় তিনি ৪-৫ শিফট করতেন, তাই কেউ জানতোও না তিনি কোথায়।”

পারফর্মার গোবিন্দা এবং ‘খুব বড় সমস্যা’
গোবিন্দা বিকেল ৩টায় সেটে পৌঁছানোর পর সহকারী তাঁর কাছে দৃশ্যটির স্ক্রিপ্ট নিয়ে যান। কিন্তু সঞ্জয় দত্ত যখন দেখেন সেই দৃশ্যে তাঁর প্রচুর সংলাপ রয়েছে, তিনি রেগে গিয়ে সহকারীকে বলেন—”এই লাইনগুলো গোবিন্দাকে দাও, আমি এটা করব না।” ফলে সঙ্গে সঙ্গেই পুরো দৃশ্যটি পরিবর্তন করা হয়।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, গোবিন্দা মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে পুরো শুটিং শেষ করে দেন।

গোবিন্দার এই দক্ষতার প্রশংসা করে রজত বেদি বলেন, “উনি একজন পারফর্মার।” যদিও রজত গোবিন্দাকে “দুর্দান্ত মানুষ” বলে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু স্বীকার করেছেন যে তাঁর “খুব বড় একটি সমস্যা” ছিল।