“রাহুল গান্ধীর ঠাকুমার বাবার সময়ও হয়েছিল!”-SIR নিয়ে কেন বিরোধিতা করছে INDIA জোট?

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেই শুরু হবে ‘সিস্টেম্যাটিক আইডেন্টিফিকেশন অফ রেসিডেন্টস’ বা ‘এসআইআর’ (SIR)। ‘এসআইআর’-এর বিরোধিতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাকে নস্যাৎ করে অমিত শাহ দাবি করেন, বিহারে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের হুমকি সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করেছে।
পঞ্চায়েত আজতক বিহারের মঞ্চে অমিত শাহ বলেন, “বিহারেও তো একই হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কী হয়েছে? সবাই তো কাগজ জমা দিয়েছেন। ভোটও হয়েছে। বাংলাতেও হবে।”
অনুপ্রবেশকারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শাহের ‘বিরাট ঘোষণা’
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর প্রক্রিয়া এবং অনুপ্রবেশকারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন রণনীতি স্পষ্ট করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন:
১. চিহ্নিতকরণ: “প্রথমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হবে।” ২. ভোটার তালিকা থেকে বাদ: “তারপর এদের ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট করা হবে।” ৩. নির্বাসন: “সবশেষে নির্বাসিত করা হবে। এটা দলের ঘোষিত লক্ষ্য।”
যাদের নাম বাদ যাবে, বা যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের কোথায় এবং কীভাবে পাঠানো হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে অমিত শাহর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “সেটা সময়ই বলবে। আপনারা শুধু দেখতে থাকুন।”
রাহুল গান্ধীকে ‘পারিবারিক’ কটাক্ষ!
এসআইআর-এর বিরোধিতা করায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশে এই প্রথমবার এসআইআর হচ্ছে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দেশে এসআইআর এই প্রথমবার হচ্ছে না। ১৯৫৩ সালে প্রথমবার হয়েছিল। অর্থাৎ রাহুল গান্ধীর ঠাকুমার বাবা, ঠাকুমা, বাবা ও মায়ের সময় এসআইআর হয়েছে। রাহুল গান্ধী হয়তো এই সত্যিটা জানেন না।”
অমিত শাহের মতে, এসআইআর হলো ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ। ১০-১৫ বছর পেরোলে অনেকে মারা যান, অনেকে অন্যত্র চলে যান বা দু’জায়গার ভোটার তালিকায় নাম থাকে। এই সংশোধন প্রয়োজন কিনা, সেই প্রশ্নই তিনি রাহুলের কাছে ছুঁড়ে দেন।
‘ইন্ডিয়া’ জোটের ‘ভোটব্যাঙ্ক’ নষ্টের আশঙ্কা!
অমিত শাহ দাবি করেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোট এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে, কারণ তারা অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক নষ্ট করতে চাইছে না।
তাঁর কথায়, “রাহুল গান্ধীরা বিরোধিতা করছে কারণ ২০০৩ সালের পরে অনেক অনুপ্রবেশকারী বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সক্ষম হয়েছে। যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে বা অন্য দেশ থেকে এসেছে তারা কি ভোটাধিকার পেতে পারে? পারে না। এটা তো দেশের আইন, সংবিধানই ঠিক করে দিয়েছে। সেই মোতাবেক কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।”
শাহ আরও দাবি করেন, সীমান্তবর্তী এলাকার বহু মানুষ বেআইনিভাবে ভোটাধিকার পেয়েছে এবং তারা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভোটব্যাঙ্ক। নাম বাদ পড়লে ভোট কম পাবে, সেজন্যই এই প্রতিবাদ।
‘মুসলিম’ ভোটব্যাঙ্কের অভিযোগ খারিজ:
এসআইআর-এর মাধ্যমে বেছে বেছে মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে – বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এই অভিযোগও খারিজ করে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “মুসলমান অথচ অনুপ্রবেশকারী হলেও তাদের কি ভোটাধিকার থাকা উচিত? শুধু মুসলমান বলে তাদের কি অন্যায় অধিকার দেওয়া উচিত? রাহুল গান্ধী তাহলে প্রকাশ্যে একথা বলুন।”
অমিত শাহের স্পষ্ট বক্তব্য, অনুপ্রবেশকারীর কোনও ধর্ম হতে পারে না এবং তারা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।