WhatsApp-ব্যবহারে যেসব ভুল করবেন না, তাহলে আপনার জেল হতে পারে?

হোয়াটসঅ্যাপ বর্তমানে যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার কারণে এখানে গোপনীয়তা রক্ষা করা কিছুটা কঠিন। কিন্তু এর চেয়েও বড় বিপদ হলো, না বুঝে কিছু কাজ করে ফেলা, যা পরবর্তীতে ব্যবহারকারীকে জেল, জরিমানা সহ গুরুতর আইনি ঝামেলায় ফেলতে পারে।

আইন মেনে চলতে এবং নিরাপদ থাকতে হোয়াটসঅ্যাপে আপনার যে দুটি কাজ একেবারেই করা উচিত নয়, তা জেনে নিন:

১. ভুলেও নকল নথি বা জালিয়াতির প্রমাণ শেয়ার করবেন না

হোয়াটসঅ্যাপে প্রচুর পরিমাণে ব্যক্তিগত ও সরকারি নথি (যেমন— জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাঙ্কের নথি, প্যান কার্ড) শেয়ার করা হয়। কিন্তু এই প্ল্যাটফর্মে কারো সরকারি নথির জাল কপি তৈরি করা বা শেয়ার করা এবং তা জালিয়াতির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।

  • গ্রেফতারের আশঙ্কা: এই ধরনের জাল নথি ব্যবহার করে ব্যাঙ্কিং পরিচয়পত্র বা অন্যান্য বিষয়ে সরাসরি জালিয়াতি করার চেষ্টা করলে ব্যবহারকারী সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার হতে পারেন।
  • করণীয়: কারো কাছ থেকে কোনো নথির ফটোকপি বা ছবি নেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন। যদি আপনার কোনো সন্দেহ থাকে, তাহলে নথির সত্যতা যাচাই করুন। কিছু জাল বলে মনে হলে তা সঙ্গে সঙ্গে ডিলিট করুন এবং কখনোই শেয়ার করবেন না।

২. ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বার্তা ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন

মানুষ প্রায়ই হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে এবং সেখানে প্রচুর কনটেন্ট শেয়ার করে। কিন্তু ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক অনুভূতির উপর ভিত্তি করে উস্কানিমূলক বার্তা, ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করা একটি মারাত্মক অপরাধ।

  • বিপজ্জনক পোস্ট: কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অবমাননাকর পোস্ট, মিম বা অডিও-ভিডিও বার্তা ছড়ানো সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
  • আইনি পরিণতি: দেশের আইন এই ধরনের বিষয়কে ‘ঘৃণামূলক অপরাধ’ (Hate Crime) হিসেবে বিবেচনা করে। যদি কেউ এই কাজ করে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই ব্যক্তির ওপর কঠোর ফৌজদারি অভিযোগ আরোপ করা যেতে পারে এবং তার জেল যাত্রা নিশ্চিত হতে পারে।

অতএব, হোয়াটসঅ্যাপে কিছু শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার আগে ভালো করে যাচাই করে নিন। না হলে অজান্তেই আপনি বড় বিপদে পড়তে পারেন।