মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধাক্কা: সস্তা LPG-এর জন্য এবার কি আমেরিকার দিকে ঝুঁকছে ভারত? বিরাট বাণিজ্য চুক্তির পথে মোদী সরকার!

ভারত তার রান্নার গ্যাসের (LPG) আমদানির উৎস পরিবর্তন করে মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা করছে। পরিবর্তে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলি আমেরিকা থেকে LPG কেনা বাড়াতে চাইছে। এই পদক্ষেপটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে বলে জানা গিয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলি ইতিমধ্যেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), কুয়েত এবং কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী LPG সরবরাহকারীদের তাদের ক্রয় কমানোর বিষয়ে অবহিত করেছে।
কেন এই পরিবর্তন?
আমেরিকা থেকে ঠিক কী পরিমাণে LPG আমদানি কমানো হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রয়টার্স-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ২০২৬ সাল থেকে তার মোট রান্নার গ্যাস আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওয়াশিংটন সফরের সময়, ভারত আমেরিকা থেকে জ্বালানি পণ্য ক্রয় ১০ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর পাশাপাশি, ২০৩০ সালের মধ্যে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ক্ষোভ ও রুশ তেল প্রসঙ্গ
বর্তমানে বাণিজ্য আলোচনার জন্য ভারতীয় কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে রয়েছেন। তবে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি প্রধান উদ্বেগের কারণ। তিনি ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ রাশিয়ার তেল কেনার শাস্তি হিসেবে ধার্য করা হয়েছিল। ওয়াশিংটন বলছে, মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধে অর্থায়ন করতে পেট্রোলিয়াম রাজস্ব ব্যবহার করছে।
এই আবহে ট্রাম্প গত বুধবার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে দেবে।
আমদানির পরিসংখ্যান
LPG হলো প্রোপেন এবং বিউটেনের মিশ্রণ, যা রান্নার জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং প্রধানত ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। পরে তা ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে পরিবারের কাছে বিক্রি করা হয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলি ২০২৬ সালে টেন্ডারের মাধ্যমে আমেরিকা থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন মেট্রিক টন LPG কেনার লক্ষ্য স্থির করেছে।
সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি ৩১ মিলিয়ন টন LPG ব্যবহারের প্রায় ৬৫ শতাংশ আমদানি করেছিল।
ঐতিহ্যগতভাবে, শোধনাগারগুলি তাদের ২০.৪ মিলিয়ন টন আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং সৌদি আরব-এর মতো দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অধীনে আমদানি করে।
২০২৪ সালে ভারত UAE থেকে ৮.১ মিলিয়ন টন, কাতার থেকে ৫ মিলিয়ন টন, কুয়েত থেকে ৩.৪ মিলিয়ন টন এবং সৌদি আরব থেকে ৩.৩ মিলিয়ন টন LPG আমদানি করেছিল। এছাড়াও বাহরাইন এবং ওমান থেকেও অল্প পরিমাণে গ্যাস কেনা হয়েছিল।
ভারত ইতোমধ্যে মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে LPG অন্তর্ভুক্ত। এটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।