গাজা ত্রাণ আটকাতে গিয়ে গ্রেফতার, তারপর…? গ্রেটা থুনবার্গকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি: ইজরায়েল কি সত্যিই অস্বীকার করবে?

গাজায় মানবিক সাহায্য (Humanitarian Aid) পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাওয়া ‘ফ্রিডম ফ্লটিলা’ (Freedom Flotilla) আটক করার পর ইজরায়েলি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। আটক থাকাকালীন তাঁর প্রতি ‘অমানবিক আচরণ’ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

সুইডিশ সংবাদমাধ্যম আফটনব্লাডেট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে থুনবার্গ তাঁর অভিজ্ঞতার টুকরো টুকরো বর্ণনা দিয়েছেন। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

যা অভিযোগ করেছেন গ্রেটা থুনবার্গ
ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করে ফ্লটিলাটিকে আটক করে এবং গ্রেটাসহ প্রায় ৪০০ জনেরও বেশি কর্মীকে হেফাজতে নেয়। তাদের একটি উচ্চ-নিরাপত্তা কারাগারে রাখা হয়েছিল।

থুনবার্গ বলেন, তাঁর মনে অনেক কিছু স্পষ্ট মনে নেই, তবে তিনি যে খারাপ আচরণের শিকার হয়েছেন, তার বর্ণনা দিয়েছেন:

শারীরিক হেনস্থা ও সেলফি: গ্রেটা থুনবার্গ অভিযোগ করেন, নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে “কোনো মানবতা বা সহানুভূতি ছিল না।” তাঁরা তাঁকে বেঁধে ফেলে এবং সেই অবস্থাতেই তাঁর সঙ্গে একের পর এক সেলফি তুলতে থাকে। তিনি বলেন, “তাঁরা আমাকে বাঁধল এবং সেলফি তুলল। তাঁরা আমাকে টেনে নিয়ে অন্যদের বসার জায়গার বিপরীত দিকে নিয়ে গেল, আর সারা সময় আমার গায়ে পতাকা জড়ানো ছিল। তাঁরা আমাকে মেরেছে এবং লাথি মেরেছে।”

অশালীন গ্রাফিতি: আটক শেষে যখন তাঁর জিনিসপত্র ফেরত দেওয়া হয়, তখন তিনি দেখতে পান যে তাঁর লাগেজে অশালীন গ্রাফিতি মাখানো রয়েছে। এর মধ্যে ইজরায়েলি পতাকা, একটি পুরুষাঙ্গের ছবি এবং ‘Wh**e Greta’ (বেশ্যা গ্রেটা) লেখা ছিল।

গ্যাস প্রয়োগের হুমকি: কর্মীদেরকে “গ্যাস প্রয়োগের” হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি দেখেন, রক্ষীরা একটি গ্যাস সিলিন্ডার এমনভাবে ধরেছিল যেন তারা বন্দীদের দিকে সেটি নিক্ষেপ করবে।

ভয়াবহ দৃশ্য: তিনি প্রায় ৫০ জন কর্মীকে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখেন, যাদের হাতে হাতকড়া লাগানো ছিল এবং কপাল মাটিতে ঠেকানো ছিল।

গ্রেটা থুনবার্গ বলেন, “একই সঙ্গে অনেক কিছু ঘটছিল। আপনি তখন হতবাক। আপনি ব্যথায় আছেন, কিন্তু শান্ত থাকার চেষ্টা করছেন।”

ইজরায়েলের প্রতিক্রিয়া এবং ফ্লটিলার ভবিষ্যৎ
ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে, গাজা ফ্লোটিলার প্রধান সংগঠকদের একজন, ব্রাজিলীয় কর্মী থিয়াগো আভিলা জানিয়েছেন, ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও, ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ব্রাজিলে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে এমন কিছু ইঙ্গিত নেই যে গাজার ওপর ইজরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো জাতির অবৈধ অবরোধ শেষ হবে। ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য যতক্ষণ না ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ফ্লটিলা অভিযান চলবে।”