আবর্জনার ব্যাগে ‘হাজার পৃষ্ঠা’ গোপন নথি! অ্যাশলে টেলিসের বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের মারাত্মক প্রমাণ, কী বলছেন অভিযুক্ত?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা পদে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অ্যাশলে জে টেলিসের বিরুদ্ধে গোপন নথি রাখা এবং চিনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে, গ্রেফতারের একদিন পরই অ্যাশলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মার্কিন ডিফেন্স বিশ্লেষকের আইনজীবীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, অ্যাশলের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং গুপ্তচরবৃত্তির সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন। অন্যদিকে, মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করে বলেছে, “যেহেতু এটি একটি চলমান তদন্ত, তাই আমরা এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারি না।”
ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশিয়ার নীতি উপদেষ্টা অ্যাশলে টেলিসকে গত ১৩ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অবৈধভাবে গোপন সরকারি নথি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন এবং চিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
এফবিআইয়ের দায়ের করা হলফনামা ও ফৌজদারি অভিযোগ থেকে জানা যায়, ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) গত ১১ অক্টোবর ভার্জিনিয়ায় টেলিসের বাসভবনে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ‘টপ সিক্রেট’ এবং ‘সিক্রেট’ চিহ্নিত হাজার পৃষ্ঠারও বেশি গোপন নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। নথিগুলি টেলিসের বেসমেন্ট অফিসে একটি তালাবদ্ধ ফাইলিং ক্যাবিনেট, একটি ডেস্ক এবং তিনটি বড় কালো আবর্জনার ব্যাগে লুকানো ছিল।
এফবিআই অনুসারে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্টেট ডিপার্টমেন্টের হ্যারি এস ট্রুম্যান বিল্ডিংয়ে একটি কম্পিউটার সিস্টেম থেকে শত শত নথি প্রিন্ট করছিলেন টেলিস। তিনি ‘ইউএস এয়ার ফোর্স ট্যাকটিক্স’ সম্পর্কিত একটি ১২৮৮ পৃষ্ঠার ফাইল সেভ করেন এবং তার কিছু অংশ প্রিন্ট করার পর ফাইলটি মুছে দেন।
এছাড়াও, ১০ অক্টোবর অন্য একটি সুরক্ষা ক্যামেরায় দেখা যায় যে মার্ক সেন্টারে (আলেকজান্রিয়া, ভার্জিনিয়া) থেকে একটি নোটপ্যাডে কিছু গোপন নথি লুকিয়ে রেখে তা নিজের চামড়ার ব্রিফকেসে ভরে নিচ্ছেন টেলিস।
এফবিআই হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে টেলিস ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সের রেস্তোঁরাগুলিতে বেশ কয়েকবার চিনা সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেছিলেন। ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এমনই এক মিটিংয়ে টেলিস একটি ম্যানিলা খাম নিয়ে রেস্তোঁরায় ঢোকেন, কিন্তু বেরোনোর সময় সেই খাম তাঁর হাতে ছিল না। বৈঠকে ইরান-চিন সম্পর্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও এমনই একটি বৈঠক হয়, যেখানে চিনা কর্মকর্তারা টেলিসকে একটি লাল উপহারের ব্যাগও দিয়েছিলেন।
মুম্বইয়ে জন্ম নেওয়া এবং বর্তমানে মার্কিন নাগরিক অ্যাশলে টেলিস মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০০১ সাল থেকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের উপদেষ্টা ছিলেন এবং মার্কিন-ভারত বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির অন্যতম প্রধান আলোচক হিসেবে কাজ করেন। গ্রেফতারের সময় তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগের নেট অ্যাসেসমেন্ট অফিসে ঠিকাদার হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন এবং কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো হিসাবেও কাজ করছিলেন।