মুরগি খাচ্ছেন? ভুল করেও এই ১০টি অংশ মুখে তুলবেন না! অজান্তেই শরীরে ঢুকছে মারাত্মক বিষ (সরাসরি সতর্কতা ও ভয়ের উপাদান)

মুরগি অত্যন্ত সুলভ এবং সহজলভ্য একটি প্রোটিন উৎস। লাল মাংসের তুলনায় এটি স্বাস্থ্যকরও বটে। কিন্তু মুরগির মাংসের ভক্তরা প্রায়শই একটি মারাত্মক ভুল করে থাকেন—তা হলো মুরগির প্রতিটি অংশই নির্বিচারে খাওয়া। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে জানাচ্ছেন, মুরগির কিছু অংশে গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি লুকিয়ে থাকতে পারে, যা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুরগির কোন কোন অংশ খাওয়ার আগে দু’বার ভাবা উচিত, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. মুরগির চামড়া (Chicken Skin)
নজরকাড়া মুচমুচে মুরগির চামড়ার ভক্ত অনেকেই। কিন্তু এটি স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়। চামড়ায় অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটের পরিমাণ খুব বেশি থাকে, যা কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে এবং হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও, রান্নার পরেও চামড়ায় ব্যাকটেরিয়া থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২. মুরগির গিজার্ড (Gizzard)
মুরগির গিজার্ড বা পেটের এই অংশে প্রায়শই মুরগির খাওয়া ছোট নুড়ি বা বালি কণা থাকতে পারে। এছাড়াও এতে বর্জ্য এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। সুস্বাদু হলেও, ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে গিজার্ড স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

৩. মুরগির গলা (Chicken Neck)
স্যুপ বা ব্রথে গলা ব্যবহার করা হলেও, এটি ব্যাকটেরিয়ার জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র হতে পারে। যদিও রান্নার তাপ অধিকাংশ রোগজীবাণু মেরে ফেলে, তবে অপর্যাপ্ত ফুটন্ত তাপে কিছু ব্যাকটেরিয়া থেকে যেতে পারে। তাই গলা খুব ভালোভাবে পরিষ্কার ও রান্না করা জরুরি।

৪. মুরগির মাথা (Chicken Head)
ঐতিহ্যবাহী স্যুপ তৈরিতে মুরগির মাথা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পরিবেশগত বিষ, যেমন কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এবং দূষিত খাদ্য এদের শরীরে জমা হয়। মাথা খেলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৫. মুরগির পা (Chicken Feet)
মুরগির পা যেহেতু সব সময় মাটির সংস্পর্শে থাকে, তাই এর খাঁজগুলিতে সহজে ময়লা, ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য দূষণকারী উপাদান জমা হতে পারে। উচ্চ দূষণের ঝুঁকির কারণে পা এড়িয়ে যাওয়া নিরাপদ।

৬. মুরগির নাড়িভুঁড়ি (Intestines)
নাড়িভুঁড়ি ব্যাকটেরিয়া এবং রোগজীবাণু দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে। খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করার পরেও সমস্ত দূষণকারী উপাদান দূর করা প্রায় অসম্ভব। এতে খাদ্য বিষক্রিয়া (Food Poisoning) এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

৭. হাড়ের মজ্জা (Bone Marrow)
হালিমের মতো পুষ্টিকর রেসিপিতে হাড়ের মজ্জা ব্যবহার করা হয়। এটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর হলেও, হাড় যদি সঠিকভাবে রান্না না করা হয়, তবে এর ভিতরে রক্ত ​​থেকে যেতে পারে। এর ফলে ক্রস-দূষণ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়।

৮. মুরগির ফুসফুস (Chicken Lungs)
যদিও এটি খুব কম খাওয়া হয়, তবে ফুসফুসে এমন পরজীবী এবং অণুজীব থাকতে পারে যা উচ্চ তাপমাত্রাতেও সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয় না। তাই এটি সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

৯. মুরগির হৃৎপিণ্ড (Chicken Heart)
প্রোটিন এবং খনিজে সমৃদ্ধ হলেও, মুরগির হৃৎপিণ্ডে অবশিষ্ট স্ট্রেস হরমোন থাকতে পারে। এটি যদি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়, তবে স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

১০. ডানার ডগা (Wing Tips)
ডানার ডগায় মূলত হাড় এবং চামড়া থাকে, যা পুষ্টির দিক থেকে বিশেষ কিছু দেয় না। সঠিক প্রক্রিয়াকরণ না হলে এতে অতিরিক্ত চর্বি এবং ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা স্বাস্থ্য দৃষ্টিকোণ থেকে কম বাঞ্ছনীয়।

সারসংক্ষেপ: মুরগি প্রোটিনে ভরপুর এবং সাশ্রয়ী হলেও, এর সব অংশই সমানভাবে নিরাপদ বা উপকারী নয়। যথাযথ পরিষ্কার এবং রান্না অপরিহার্য হলেও, বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—নিরাপদ থাকার জন্য এই নির্দিষ্ট অংশগুলি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।