ফাঁসির বদলে ইঞ্জেকশন: মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি বদলাবে? সুপ্রিম কোর্টে বড় ইঙ্গিত!

ভারতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি বদল নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) শুনানিতে এই প্রশ্নটি উঠে আসায় বৃহস্পতিবার বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রস্তাবে সরাসরি বিরোধিতা করলেও, সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) মন্তব্য করেছে, মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টি ভাবার সময় এসেছে।

মামলাকারীর আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা আদালতে সওয়াল করেন, অন্ততপক্ষে বন্দিদের সুযোগ দেওয়া হোক যাতে তাঁরা ফাঁসির পরিবর্তে প্রাণঘাতী ইনজেকশন (Lethal Injection) বেছে নিতে পারেন। তাঁর দাবি, এই পদ্ধতি অনেক বেশি মানবিক এবং দ্রুত মৃত্যু নিশ্চিত করে। তিনি বলেন, “ফাঁসি অত্যন্ত নৃশংস, বর্বরোচিত এবং দীর্ঘস্থায়ী। প্রাণঘাতী ইনজেকশনে মৃত্যু দ্রুত হয়।” তিনি আরও যুক্তি দেন যে সেনাবাহিনীতেও বিকল্প মৃত্যুদণ্ডের অপশন দেওয়া হয়।

মামলাকারীদের বক্তব্য, ফাঁসির সাজা কার্যকর হতে কমপক্ষে ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যা মৃত্যুর আগে বন্দিকে চরম মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা দেয়। তাই তাঁরা প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রাণঘাতী ইনজেকশন, বৈদ্যুতিক শক বা গ্যাস চেম্বারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক, যা কয়েক মিনিটেই কার্যকর করা সম্ভব। তাঁরা আরও তথ্য দেন, আমেরিকার ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ৪৯টিতেই ইতিমধ্যেই প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।

তবে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করা হয়েছে। সরকারের পেশ করা হলফনামায় জানানো হয়, বন্দিদের বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সঙ্গে গুরুতর নীতিগত প্রশ্ন জড়িত। তাই ফাঁসির পরিবর্তে নতুন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান প্রসঙ্গে মন্তব্য করে: “সমস্যা হল সরকার বিবর্তনের জন্য প্রস্তুত নয়। এটা একটা অত্যন্ত পুরনো পদ্ধতি (ফাঁসি)। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বদলেছে।” আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আবারও মৃত্যুদণ্ডের মানবিক রূপান্তর নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে।