সূর্যকুণ্ডের স্নানে চর্মরোগ দূর! রহস্যময় পাটেশ্বরী দেবী মন্দির: যেখানে চালের ঢিবি তৈরি করে প্রসাদ পান ভক্তরা

সনাতন হিন্দু ধর্মে দেবী সতীর ৫১টি শক্তিপীঠের এক বিশেষ স্থান রয়েছে। এই ৫১ পীঠস্থানের উৎপত্তির কারণ পুরাণগুলিতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই শক্তিপীঠগুলির মধ্যে উত্তর প্রদেশের বলরামপুর জেলার পাটেশ্বরী দেবী মন্দিরও অন্যতম। এই স্থানটি এক সিদ্ধ শক্তিপীঠ এবং যোগপীঠ হিসেবে পরিচিত। মন্দিরটি তন্ত্রসাধনার জন্যও বিখ্যাত, এবং বহু সাধক এখানে বিশেষ অনুষ্টান করেন। মন্দিরের গর্ভগৃহে থাকা দেবীর মূর্তি স্বয়ম্ভূ বলে মানা হয়। আজ আমরা এই মন্দিরের ইতিহাস এবং অলৌকিক মাহাত্ম্য নিয়ে আলোচনা করব।
আস্থার কেন্দ্র এই মন্দির
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যে স্থানে এখন পাটেশ্বরী দেবী মন্দির অবস্থিত, সেখানে দেবী সতীর বাঁ কাঁধ এবং ‘পট’ (বস্ত্র বা আবরণ) পতিত হয়েছিল। এই কারণে স্থানটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মন্দিরটি উত্তর প্রদেশের বলরামপুর জেলায় অবস্থিত এবং আজও এটি সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
মানসিক শান্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি
নবরাত্রির সময় মা পাটেশ্বরীর বিশেষ পূজা করা হয়। এই সময়ে দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়। ভক্তরা দেবীর পিণ্ডির কাছে চালের ঢিবি তৈরি করে, পূজা সম্পন্ন হওয়ার পর সেই চাল প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, যে ভক্তরা মা পাটেশ্বরীর কাছে শুদ্ধ মনে পূজা করেন, তাঁরা মানসিক শান্তি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করেন।
ত্রেতা যুগ থেকে ধুনী প্রজ্জ্বলিত
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পাটেশ্বরী দেবী মন্দিরে আজও একটি অখণ্ড ধুনী (পবিত্র অগ্নি) জ্বলছে। কিংবদন্তি অনুসারে, ত্রেতা যুগে গুরু গোরক্ষনাথ মহারাজ দেবী পাটেশ্বরীকে তুষ্ট করার জন্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন এবং সেই সময়েই তিনি এই ধুনী প্রজ্জ্বলিত করেছিলেন, যা আজও নির্বিঘ্নে জলছে। মন্দিরের গর্ভগৃহে ভক্তদের কঠোর নিয়ম মেনে প্রবেশ করতে হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই ধুনীর ছাই যারা ঘরে নিয়ে যান, তাঁদের জীবনের সমস্ত কষ্ট দূর হয়ে যায়।
সূর্যকুণ্ডের অলৌকিকতা
এই মন্দিরে একটি সূর্যকুণ্ডও রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাভারতের সময় মহাবীর কর্ণ এই পবিত্র স্থানে স্নান করে সূর্য দেবকে জল অর্পণ করেছিলেন, সেই থেকেই এই কুণ্ডের নাম ‘সূর্যকুণ্ড’ হয়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই কুণ্ডে স্নান করলে সমস্ত ধরনের চর্ম রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।