কেরলের নামী স্কুলেও ফের ‘হিজাব বিতর্ক’! ছাত্রীকে পোশাকবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বাধা, পরিস্থিতি এমন যে ২ দিন ছুটি ঘোষণা!

রাজ্যে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল ‘হিজাব বিতর্ক’। কোচির একটি নামী স্কুলে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হিজাব (Hijab) পরতে বাধা দেওয়ার জেরে উত্তেজনা ছড়াল। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে অবশেষে দু’দিনের জন্য স্কুল ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হলেন কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, কোচির পল্লুরুথিতে অবস্থিত সেন্ট রিটা’স পাবলিক স্কুলে ঘটনাটি ঘটে। স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের (Uniform) বিরুদ্ধে হওয়ায় অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে হিজাব পরে আসতে বারণ করা হয়।
‘হেনস্থা’-র অভিযোগ, পালটা কর্তৃপক্ষের দাবি
ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, হিজাব পরার কারণে তাঁদের মেয়েকে হেনস্থা করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, এতদিন ওই ছাত্রী স্কুলের নির্ধারিত পোশাক পরেই আসত। কিন্তু সম্প্রতি সে হিজাব পরে আসা শুরু করে, যা স্কুলের কড়া পোশাকবিধি লঙ্ঘন। কর্তৃপক্ষ ছাত্রীটিকে হিজাব পরে আসতে বারণ করলেও সে কথা শোনেনি। ঘটনার নিষ্পত্তি করতে ছাত্রীটিকে একজন শিক্ষকের সঙ্গে স্কুলের কনফারেন্স রুমে বসতে বলা হয়।
কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। ছাত্রীর অভিভাবকরা সাফ জানিয়ে দেন যে হিজাব বাদ দেওয়া যাবে না।
স্কুলে উত্তেজনা, ছুটি ঘোষণা
এই ঘটনার নিরিখে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি স্কুলে এসে সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এর ফলে অনেক ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকের মধ্যে চাপ ও আতঙ্ক তৈরি হয়।
স্কুলের দৈনন্দিন পঠন-পাঠন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অধ্যক্ষ সিস্টার হেলিনা অ্যালবি বাধ্য হয়ে সোম এবং মঙ্গলবার—এই দুই দিনের জন্য স্কুল ছুটি ঘোষণা করেছেন।
এদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে ভর্তির সময়ই সকল শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে স্কুলের ইউনিফর্ম অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক এবং সকলে তাতে সম্মতিও দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও এই ঘটনায় স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি হলো।
অন্যদিকে, ছাত্রীর পরিবার এই ঘটনা নিয়ে এবার সরকারের কাছে অভিযোগ জানাতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। কেরলের মতো একটি রাজ্যে ফের এই হিজাব বিতর্ক সামনে আসায় শিক্ষামহল ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।