রঞ্জি ট্রফিতে ফিরেই শামির সঙ্গে জুটি! আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এসে ঘরোয়া ক্রিকেটকে ‘প্রয়োগক্ষেত্র’ বলছেন আকাশদীপ

ইংল্যান্ড সফরে চোট পেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়া ভারতীয় পেসার আকাশদীপ এবার ঘরের মাঠে রঞ্জি ট্রফিকে পাখির চোখ করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা পাকা করার আগে তিনি জানিয়ে দিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলাটা আলাদা কোনো রকেট সায়েন্স নয়।

সম্প্রতি এজবাস্টন টেস্টে (১৮৭ রানে ১০ উইকেট) সেরা বোলিং ফিগারের নজির গড়া এই ডানহাতি পেসার প্রায় দু’মরশুম পর বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে প্রত্যাবর্তন করছেন। আগামী ১৫ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে উত্তরাখণ্ড ম্যাচের মাধ্যমে বাংলা তাদের ২০২৫-২৬ রঞ্জি ট্রফি অভিযান শুরু করবে।

শামির সঙ্গে বল ভাগ করে নেওয়ার উত্তেজনা
দীর্ঘদিন পর বাংলার জার্সিতে ফেরা ছাড়াও, আকাশদীপের অন্য একটি কারণে উত্তেজনা রয়েছে। এবারই প্রথম বাংলার হয়ে জাতীয় দলের তারকা পেসার মহম্মদ শামি ও তিনি একসঙ্গে খেলবেন।

শামির সঙ্গে খেলার সুযোগ নিয়ে আকাশদীপ বলেন, “শামি ভাইয়ের সঙ্গে খেলার প্রথম সুযোগ মিলবে আমার কাছে। এত বড় মাপের প্লেয়ারের সঙ্গে খেললে অনেক কিছু শেখা যায়। এই মুহূর্তে প্রচুর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করছে সে। তাই তাঁর সঙ্গে খেলার অর্থ ছোট ছোট অনেক বিষয়ে জ্ঞান হওয়া।”

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটের মঞ্চে ফেরা চ্যালেঞ্জিং হলেও, আকাশদীপ বলছেন তাঁর কাজ শুধু ভালো খেলে যাওয়া। তিনি বলেন, “ভারতীয় দলে খেলা আলাদা কোনো রকেট সায়েন্স নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে যেমন কৌশল অনুযায়ী বোলিং করি, জাতীয় দলেও তাই। কেবল প্রয়োগক্ষেত্র আলাদা।”

আক্ষেপ রানার্স হওয়ার দুঃখ
২০২২-২৩ মরশুমে ৪১ উইকেট নিয়ে রানার্স হওয়া বাংলা দলের সদস্য ছিলেন আকাশদীপ। কিন্তু সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফাইনাল হারের দুঃখ এখনও তাঁর টাটকা। সেই আক্ষেপ বয়ে বেড়ানো এই পেসার বলেন, “দুবার খুব কাছে গিয়েও খেতাব হাতছাড়া হয়েছে। এই দুঃখ আমার থেকে ভালো আর কে জানবে। তবে বাংলার হয়ে রঞ্জি জয় আমার স্বপ্ন। এখানকার মানুষ ক্রিকেটকে যেভাবে ভালোবাসে, তাতে খেতাব তাঁদেরও প্রাপ্য।”

ইংল্যান্ড সফরের পর আকাশদীপের বোলিং এখন প্রতিপক্ষের কাটাছেঁড়ার কারণ। বৈচিত্র্য না-নিয়ে আসতে পারলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা কঠিন হবে জেনে তিনি আউট সুইং (Outswing) অস্ত্রে বাড়তি পরিশ্রম করছেন বলেও জানালেন।

মুকেশ কুমার, মহম্মদ শামি, সূরজ সিন্ধু জয়সওয়াল এবং ঈশান পোড়েলের মতো পেসারদের নিয়ে গড়া বাংলার পেস বোলিং আক্রমণকে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে শক্তিশালী বলে মনে করেন। সবমিলিয়ে, এবারের রঞ্জিতে বাংলার জার্সিতে জ্বলে ওঠার পাশাপাশি প্রোটিয়া সিরিজের স্কোয়াডে নিজের জায়গা পাকা করতে মরিয়া আকাশদীপ।