প্লাবনে বিচ্ছিন্ন ঘাটালের পান্না! ‘মৃত্যুকূপ’ রাস্তায় চলে না অ্যাম্বুল্যান্সও, দ্রুত সমাধানের আশ্বাস পঞ্চায়েত সমিতির

একটানা প্লাবনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার পান্না সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। শিলাবতী নদীর ভাঙন এবং প্রবল বৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলের প্রধান সড়কগুলি ভেঙে চুরমার, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই বিচ্ছিন্ন।
সবচেয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যাতায়াতকারীদের জন্য। ভাঙাচোরা আর ধ্বংসপ্রায় রাস্তাগুলি এখন রীতিমতো ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত হয়েছে। বড় গাড়ি তো দূর, জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুল্যান্স পর্যন্ত গ্রামে ঢুকতে পারছে না! জীবন হাতে নিয়েই পারাপার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
মৃতপ্রায় রাস্তায় বাঁশের মাচা, কবে ফিরবে সুদিন?
চলতি বছরে পরপর বন্যার কারণে ঘাটালের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কিছু এলাকায় এখনও জল জমে আছে। আবার কিছু জায়গায় ভাঙাচোরা ইঁটের উপর বাঁশের মাচা তৈরি করে কোনওরকমে হাঁটাচলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্লাবনের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত এইসব রাস্তা এখন স্থানীয়দের কাছে এক অসহায়তার প্রতীক।
মানুষের নাজেহাল অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই আশার আলো দেখালেন পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বিকাশ কর।
রাস্তা সারাইয়ে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের আশা
সংবাদমাধ্যমকে পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বিকাশ কর জানান, “পাঁচ-ছ’বারের অধিক বন্যায় ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ফলেই রাস্তাগুলির এই শোচনীয় অবস্থা।”
তবে এই সমস্যার সমাধানে তিনি আশাবাদী। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার রিপোর্ট জেলাতে পাঠানো হয়েছে এবং জেলা থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রোপোজাল ও এস্টিমেটও পাঠানো হয়ে গিয়েছে। এরপর কিছু টেন্ডার প্রক্রিয়া জেলাতে এবং কিছু পঞ্চায়েত সমিতিতে সম্পন্ন হবে।
সহ-সভাপতি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আশা করি এই ১০ কোটি টাকা চলে এলে প্রধান প্রধান সড়কগুলো মেরামত করা হয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ হবে।”
অপেক্ষা আর মাত্র দু’মাস!
যদিও টেন্ডার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ, তাই সহ-সভাপতি সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “আশা করি দু’মাসের মধ্যেই রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু হয়ে যাবে।”
আপাতত প্রশাসন তরফে মেরামতির এই আশ্বাস পাওয়ার পর ঝুঁকি নিয়ে পথ চলতে চলতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করা ছাড়া ঘাটাল মহকুমার পান্না সহ একাধিক এলাকার মানুষের আর কোনও উপায় নেই। এখন দেখার কবে সমস্ত জটিল প্রক্রিয়া শেষ হয়ে এই প্রধান সড়কগুলির সংস্কার শুরু হয়।