“বাড়ি-রাস্তা-সেতু সব হবে!” বন্যা বিধ্বস্ত নাগরাকাটায় চাকরি-ত্রাণ দিয়ে কী আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

গাঠিয়া নদীর ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা। ৬ তারিখের বন্যায় প্রাণ হারানো ৯টি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আজ ফের দুর্গম বন্যা বিধ্বস্ত বামনডাঙ্গা ও টুন্ডু ভিলেজে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার চেক দেওয়ার পর আজ বামনডাঙ্গায় সরাসরি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
গতকাল আলিপুরদুয়ারে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে আজ সড়কপথে নাগরাকাটায় আসেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য তিনি কার্যত জীবনের ঝুঁকি নেন। সেতু অ্যাপ্রোচ রোডের নির্মীয়মাণ লোহার সিঁড়ি বেয়ে পায়ে হেঁটে নেমে যান বামনডাঙ্গায়। সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ডিজি রাজীব কুমার, জেলাশাসক শামা পারভিন, পুলিশ সুপার উমেশ খান্ডবাহালে-সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা।
বাঁধ ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, মমতার আশ্বাসবাণী
বন্যায় গাঠিয়া নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় টুন্ডু ভিলেজ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদী ঘেরা চা বাগানের মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি ত্রাণ শিবিরগুলোতে যান এবং বানভাসি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন।
ত্রাণ শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট আশ্বাস দেন, “বাড়ি ঘর সবাই-ই দেওয়া হবে। যে সকল রাস্তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সেগুলি দ্রুত মেরামত করা হবে।” তিনি জানান, নাগরাকাটার ভেঙে যাওয়া তিনটি সেতুও দ্রুত তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত হাসপাতাল সহ অন্যান্য জরুরি পরিষেবা মানুষ পান। ত্রাণ শিবিরে রান্না করে খাওয়ানোর কাজ জারি থাকবে বলেও জানান তিনি।
বন্যার সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী গতকাল আলিপুরদুয়ারের প্রশাসনিক সভায় সিভিক ভলান্টিয়ার, সিভিল ডিফেন্স ও বনকর্মীদের পুরস্কৃতও করেন।