“নির্যাতিতার চিকিৎসা নিয়ে মুখ খুলতে বারণ ডাক্তারদের!” দুর্গাপুর কাণ্ডে বিস্ফোরক শুভেন্দু, মুখ্যমন্ত্রীকে ‘লজ্জিত’ হওয়ার পরামর্শ

দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রী গণধর্ষণ কাণ্ডে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানায় আনলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনার মূল অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম শেখ নাসিরউদ্দিন শুধু দুর্গাপুর পুরসভার অস্থায়ী কর্মীই নন, তাঁর বাবাও স্থানীয় তৃণমূলের নেতা।
ঘটনার প্রতিবাদে ধরনা মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী শাসকদলের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “মোট চারজন গ্রেফতার হয়েছে। আজকে যে গ্রেফতার হয়েছে, নাসিরউদ্দিন, তিনি দুর্গাপুর পুরনিগমের অস্থায়ী কর্মী, তৃণমূলের ক্যাডার। ওনার বাবা পার্টির পোর্ট ফোলিও হোল্ডার।”
শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, এই গ্রেপ্তারের ফলে ঘটনার সঙ্গে একটি নতুন তত্ত্ব যুক্ত হল। তাঁর কথায়, “এই গণধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের পদাধিকারিই যুক্ত। স্বাভাবিকভাবে, শাসক যেখানে শোষক, তিনি হলেন আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তিনি জানেন সব কিছুই।” সরাসরি শাসকদলের যোগসাজশের অভিযোগ তুলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনা সত্ত্বেও দুর্গাপুরে না আসায় বিরোধী দলনেতা তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর জন্য লজ্জিত। তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, নির্যাতিতার চিকিৎসা নিয়ে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের মুখ খুলতে নিষেধ করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, নির্যাতিতাকে এই রাজ্যে রাখতে তাঁর পরিবার রাজি নয়। তাদের যত দ্রুত সম্ভব নির্যাতিতাকে ওড়িশায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা ও পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।