সরকারি দফতরে ‘মদ পার্টি’! অ্যাকাউন্টস ব্রাঞ্চে গোপন অভিযান SE-এর, হাতেনাতে ধরা একজন, পালাল মূল অভিযুক্ত

রাজস্থানের বাঁশওয়াড়া শহরের দাহোদ মার্গস্থিত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের (PHED) কার্যালয়ে ছুটির দিন রবিবার চরম বিশৃঙ্খলা ও অবৈধ কার্যকলাপের ঘটনা সামনে এসেছে। বিভাগেরই কিছু কর্মচারী সরকারি দফতরে মদ্যপানের আসর বসিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর্দাফাঁস হয় বিভাগীয় সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার (SE) জে.কে. চারণের আকস্মিক হানায়।

কার্যালয়ে অবৈধ কার্যকলাপ চলছে— এমন গোপন খবর পেয়েই এসই জে.কে. চারণ সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালান। তিনি দেখেন যে অফিসের সবচেয়ে সংবেদনশীল স্থান, অর্থাৎ অ্যাকাউন্টস ব্রাঞ্চে, বিভাগের অ্যাকাউন্ট্যান্ট গৌতম কুমার সোনীসহ আরও তিনজন ব্যক্তি বসে মদ্যপান করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেখেই অফিসে হুলুস্থুল শুরু হয়ে যায়। মদের পার্টিতে থাকা ব্যক্তিরা হতচকিত হয়ে পালাতে শুরু করেন। এই সুযোগে মূল অভিযুক্ত অ্যাকাউন্ট্যান্ট গৌতম কুমার সোনী এবং তাঁর দুই সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তবে, এসই চারণ এক ব্যক্তিকে পালাতে বাধা দিয়ে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং দ্রুত রাজতালাব পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ মদ্যপানের স্থান থেকে বীয়ারের বোতলও উদ্ধার করেছে। সরকারি অফিসে ছুটির দিনে এমন গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অবৈধ কার্যকলাপকে অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

এসই জে.কে. চারণ এই ঘটনাকে বিভাগের মর্যাদার জন্য অত্যন্ত অপমানজনক বলে উল্লেখ করে অ্যাকাউন্ট্যান্ট গৌতম কুমার সোনী এবং পলাতক দুই অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজতালাব থানায় রিপোর্ট দায়ের করেছেন। পুলিশ ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং মূল অভিযুক্ত অ্যাকাউন্ট্যান্ট গৌতম কুমার সোনী ও তাঁর সঙ্গীদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে। নিজের কার্যালয়ে উচ্চপদস্থ কর্তার এমন আচমকা অভিযান এবং অবৈধ পার্টির পর্দাফাঁস রাজ্যে এই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে।
(রিপোর্ট- সুভাষ মেহতা/বাঁশওয়াড়া)