নির্ভয়ার পর কঠোর আইনও ব্যর্থ! প্রতি ঘণ্টায় ১৫টির বেশি নারী নির্যাতন, স্বামী-শ্বশুরবাড়ির হাতেই শিকার সবচেয়ে বেশি

জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (NCRB)-এর ২০২৩ সালের নারী নির্যাতন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান দেশের অগ্রগতির পরিসংখ্যানে কালিমা লেপে দিল। একদিকে যখন দেশ প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, চিকিৎসা সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অবিরাম এগিয়ে চলেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নারীদের প্রতি অপরাধের ঘটনায় ভারত লজ্জার মুখে।

এনসিআরবি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তার আগের দুই বছরের তুলনায় মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা আরও বেড়েছে। সারা দেশে মোট ৪,৪৮,২১১টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে ২০২২ সালে ছিল ৪,৪৫,২৫৬ এবং ২০২১ সালে ৪,২৮,২৭৮টি।

নারী নির্যাতনের সবচেয়ে বেশি ঘটনা উত্তর প্রদেশে (৬৬,৩৮১) নথিভুক্ত হয়েছে। এরপরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র (৪৭,১০১), রাজস্থান (৪৫,৪৫০), পশ্চিমবঙ্গ (৩৪,৬৯১) এবং মধ্যপ্রদেশ (৩২,৩৪২)।

তবে প্রতি লাখ মহিলা জনসংখ্যায় অপরাধের হার (ক্রাইম রেট) বিবেচনা করলে তেলেঙ্গানা (১২৪.৯) শীর্ষে রয়েছে। এরপর রাজস্থান (১১৪.৮), ওড়িশা (১১২.৪), হরিয়ানা (১১০.৩) এবং কেরল (৮৬.১)।

ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC)-এর ৪৯৮এ ধারায় স্বামী বা তার আত্মীয়দের দ্বারা নিষ্ঠুরতার (Cruelty by Husband or his Relatives) মামলাই সবচেয়ে বেশি, যার সংখ্যা ১,৩৩,৬৭৬ এবং এর হার ১৯.৭। মহিলাদের অপহরণ ও জিম্মি করার ৮৮,৬০৫টি মামলা, শ্লীলতাহানির অভিপ্রায়ে আক্রমণের ৮৩,৮৯১টি মামলা এবং ২৯,৬৭০টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ধর্ষণের মামলা ২৮,৮২১টি।

আইন কঠোর হওয়া সত্ত্বেও, ২০১২ সালের নির্ভয়া ঘটনার পরেও পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। মহিলা শান্তি ও সুরক্ষা সূচক (WPS Index)-এর ২০২৩ সালের রিপোর্টে ভারত ১২৮তম স্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা, সামাজিক কুসংস্কার এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের অভাব এই অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।