দীপিকা-রণবীরের টোনড শরীরের আসল রহস্য কী? সেলিব্রিটি পুষ্টিবিদ ফাঁস করলেন নায়ক-নায়িকাদের ফিট থাকার ৩ মহামন্ত্র!

বলিউডের তারকাদের নিখুঁত টোনড দেহ এবং অ্যাবস দেখে আমরা প্রায়শই অবাক হয়ে যাই। দীপিকা পাড়ুকোনের মেদহীন কোমর হোক বা রণবীর কাপুরের টোনড শরীর—এই ফিটনেসের রহস্য আসলে কী? পর্দার পিছনে নায়ক-নায়িকারা কতটা কঠোর পরিশ্রম করেন? এই রহস্য উন্মোচন করেছেন সেলিব্রিটি নিউট্রিশনিস্ট পূজা মাখিজা।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারকাদের এমন আকর্ষণীয় চেহারা শুধুমাত্র ঈশ্বরপ্রদত্ত বা সাজসজ্জার ফল নয়। তিনি বলেন, “তাঁরা সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করেন। তাঁরা প্রতিটি নিয়ম মেনে চলে। যে ভাবে যা শেখানো হয়, সেটি অনুসরণ করেন।”

পূজা মাখিজা এমন তিনটি প্রধান জিনিসের কথা বলেছেন যা মনের মতো টোনড চেহারা পেতে সাহায্য করে:

১. অধ্যবসায় (Perseverance)
স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নিয়মিতভাবে অনুসরণ করাই হল ডায়েটে অধ্যবসায়। এর মানে হলো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, যা ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং তা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কী করবেন: ক্র্যাশ ডায়েট এড়িয়ে চলুন। দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্থায়ী জীবনধারার পরিবর্তনের দিকে মনোনিবেশ করুন।

২. ধারাবাহিকতা (Consistency)
স্বাস্থ্যকর ডায়েট এবং অভ্যাস নিয়মিতভাবে মেনে চলা ফিটনেসের মূল চাবিকাঠি। খুব কঠোর বা অপ্রয়োজনীয় পদ্ধতি এড়িয়ে ধীরে ধীরে ছোট পরিবর্তন আনা উচিত।

কী করবেন: শুরুতে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। নিয়মিত খাবারের সময় নির্ধারণ করুন এবং খাবারের পরিকল্পনা করুন। অতি নিখুঁত হওয়ার চেয়ে ধাপে ধাপে উন্নতির দিকে মনোযোগ দিন।

৩. ঘড়ির কাঁটা ধরে খাওয়া (Timed Eating)
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া সফল ডায়েট প্লানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খাবারের সময় খিদে নিয়ন্ত্রণ করে, রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।

কী করবেন: একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি তৈরি করুন। পুষ্টিকর খাবারের দিকে মনোনিবেশ করুন এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করে একটি ধারাবাহিক খাদ্যের ‘উইন্ডো’ তৈরি করুন।

পুষ্টিবিদ যেমন বলেছেন, তারকাদের মতো ফিট এবং টোনড শরীর পাওয়া শুধুমাত্র জিনগত উপহার নয়। এর পিছনে লুকিয়ে আছে নিয়মিত পরিশ্রম, ধৈর্য এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন। সুস্থ ও আকর্ষণীয় শরীরের আসল রহস্য হলো ধারাবাহিকতা, অধ্যবসায় এবং সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তগুলি মেনে চলা।