‘আমরা ধর্মনিরপেক্ষ ভোট ভাগ করি না’: মহাজোটের বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ! বিহারে থার্ড ফ্রন্ট গড়তে তৎপর AIMIM

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল চূড়ান্ত হয়েছে। বিহারে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) রাজ্য জুড়ে ২৪৩টি আসনে শরিক দলগুলির মধ্যে আসন বণ্টনের ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস, আরজেডি (RJD) এবং বাম দলগুলির মহাজোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে, এই দুই জোটের বাইরে এবার নির্বাচনে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।

এনডিএ জোটে জেডি(ইউ), বিজেপি, লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস), রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টি (আরএলএসপি) এবং হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা অন্তর্ভুক্ত। বিরোধী মহাজোটে রয়েছে আরজেডি, কংগ্রেস, তিনটি বাম দল, মুকেশ সাহানির ভিআইপি সহ অন্যান্য দল।

এই দুই জোট থেকে আলাদা হয়ে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল এআইএমআইএম (AIMIM) একটি তৃতীয় বিকল্প তৈরি করার চেষ্টা করছে। যদিও AIMIM প্রথমে মহাজোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল এবং তাদের বিহার ইউনিট আরজেডি সভাপতি লালু প্রসাদ ও তেজস্বী যাদবকে চিঠি লিখে ছয়টি আসন দাবি করেছিল, কিন্তু আরজেডির পক্ষ থেকে কোনো উত্তর আসেনি।

আরজেডিকে লেখা চিঠিতে এআইএমআইএম জানিয়েছিল যে, ধর্মনিরপেক্ষ ভোট ভাগ হওয়া আটকাতে এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে তারা মহাজোটে যোগ দিতে চায়। এমনকি ছয়টি আসন পেলেও তারা সেইগুলিতেই লড়বে। তবে আরজেডির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় এখন এআইএমআইএম এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা করেছে।

গত ২০২০ সালের নির্বাচনে এআইএমআইএম ২০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এবং বিহারের সীমাঞ্চল এলাকায় পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেছিল। যদিও পরে তাদের চারজন বিধায়ক দল ছেড়ে দেন।

এআইএমআইএম এবার ১৬টি জেলার ৩২টি বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা করেছে। এআইএমআইএম-এর ৩২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ায় মহাজোট বা এনডিএ জোটের আসনগুলিতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথম তালিকা ঘোষণার সময় এআইএমআইএম-এর রাজ্য সভাপতি আখতারুল ইমান বলেছিলেন যে, তাঁদের দল সিওয়ান, দারভাঙ্গা, সমস্তিপুর, মোতিহারি, নওয়াদা, জামুই, ভাগলপুর, সীতামঢ়ী, মধুবনী, বৈশালী, কিষানগঞ্জ, পূর্ণিয়া, কাটিহার, আরারিয়া, গয়া এবং গোপালগঞ্জ সহ একাধিক আসনে প্রার্থী দেবে। মজার বিষয় হলো, এই আসনগুলির বেশিরভাগই বর্তমানে মহাজোটের বিধায়কদের দখলে রয়েছে।

টিভি৯ হিন্দি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আখতারুল ইমান বলেন, ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মহাজোট এআইএমআইএম-এর বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ ভোট ভাগ করার অভিযোগ করেছিল। এর পরই এই নির্বাচনে এআইএমআইএম মহাজোটে যোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়, কিন্তু আরজেডি-র পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে, দলটি এখন তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ার উদ্যোগ শুরু করেছে।

আখতারুল ইমান বলেন যে, তাঁরা সমমনা দলগুলির সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা করছেন। লালু প্রসাদের বড় ছেলে তেজ প্রতাপ যাদবের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে কি না, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, যেসব দল সমমনা, তাদের সঙ্গেই আলোচনা চলছে।

প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওম প্রকাশ অশক-এর মতে, রাজ্যে এমন ১১টি আসন রয়েছে যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। এছাড়াও, রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ১৭ শতাংশের বেশি হওয়া সত্ত্বেও তারা রাজ্য বিধানসভায় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পাননি। এমন পরিস্থিতিতে এআইএমআইএম মুসলিম ভোটকে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে। দলের কৌশলের মূল লক্ষ্য মুসলিম ভোটের উপর নজর দেওয়া, তবে এর ফলে কংগ্রেস এবং আরজেডি-র মতো দলগুলির ক্ষতি হতে পারে, কারণ মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক ঐতিহ্যগতভাবে তাদেরই বলে মনে করা হয়।

অন্যদিকে, আরজেডি নেতারা অভিযোগ করেন যে এআইএমআইএম বিজেপির সুবিধার জন্য ধর্মনিরপেক্ষ ভোট ভাগ করে। আখতারুল ইমান অবশ্য আরজেডি, জেডি(ইউ) এবং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুসলমানদের প্রতি উদাসীনতার অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, মুসলিমরা তাদের জনসংখ্যার অনুপাতে কখনই প্রতিনিধিত্ব পাননি।

আখতারুল ইমান এর আগে আরজেডি এবং জেডি(ইউ) উভয় দলেই ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি এআইএমআইএম-এর একমাত্র বিধায়ক। দলটি আরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিহারের রাজনীতিতে একটি নতুন বিকল্প দেখা যেতে পারে। দলের দাবি, তারা আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ১০০ জন প্রার্থী দেবে এবং এনডিএ ও মহাজোট, উভয়কেই তাদের উপস্থিতি অনুভব করতে বাধ্য করবে।