‘মেয়েদের ঘরে থাকার ফতোয়া দিন!’- মমতার মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য, তীব্র কটাক্ষ করলেন নির্যাতিতার বাবা

দুর্গাপুরে মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। এই ঘটনার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) করা একটি মন্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, এবার সেই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে মুখ খুললেন খোদ নির্যাতিতার বাবা। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে তিনি শুধু ক্ষুব্ধই নন, সরাসরি পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রবিবার নির্যাতিতার বাবা তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) খুব ভালো কথা বলেছেন। আমরা তাঁকে আজ রাতে একটি ফতোয়া জারি করতে বলব যে আগামীকাল সকাল থেকে কোনও মেয়েকে তার বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হবে না। এটা ভালো হবে। কোনও মেয়ে বাইরে না বেরোলে কোনও ঘটনা ঘটবে না।”
এরপরই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যদি তিনি তাঁর কাজটি করতে না পারেন, তাহলে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গে, ওড়িশার এক মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা কী বার্তা দিচ্ছে?” নির্যাতিতার বাবা অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা ঠিকভাবে দেখছেন না। সেই কারণেই তিনি ভুক্তভোগীর উপর দোষ চাপাচ্ছেন। তাঁর এই আচরণকে তিনি ‘খুবই আপত্তিকর’ বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে জাতীয় মহিলা কমিশনও। কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার বলেন, “আমরা কীভাবে বলতে পারি যে সন্ধ্যায়, অর্থাৎ দিনে ১২ ঘণ্টা, একটি মেয়েকে ঘরে বন্দি থাকতে হবে। আজকের যুগে দাঁড়িয়ে মহিলারা হাসপাতালে, আইটি সেক্টরে এবং সর্বত্র পুরুষদের সঙ্গে সমানভাবে কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, আজকের ভারতীয় মেয়েরা ভারোত্তোলনে স্বর্ণপদক জিতছে। তাই মহিলাদের পাশে দাঁড়ানো এবং মহিলাদের সুরক্ষিত করার জন্য আইন প্রণয়ন করা মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব। অর্চনা মজুমদার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করতে পারি না যে মেয়েদের ঘরে থাকতে হবে… এটা ঠিক নয়।”
প্রসঙ্গত, কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, “ওই মেয়েটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ত। রাত ১২টা ৩০ মিনিটে কীভাবে বাইরে এল? যতদূর জানি, ঘটনাটা জঙ্গলের পাশে ঘটেছে। তদন্ত চলছে। তবে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোকেও ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।” এই মন্তব্যের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁর বক্তব্য ‘বিকৃতভাবে’ উপস্থাপন করেছে সংবাদমাধ্যম। যদিও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন যে, তাঁর কথা বিকৃত করা হয়নি, উনি ওটাই বলেছিলেন।