‘ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী ফোন করলেন, মমতা কেন নীরব?’- দুর্গাপুর কাণ্ডে নির্যাতিতার বাবার পাশে শুভেন্দু, রাজ্য প্রশাসনকে তোপ

দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে এবার রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী ফোন করে খোঁজ নিলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন একবারও নির্যাতিতার পরিবারকে ফোন বা দেখা করে খোঁজ নিলেন না।

নির্যাতিতার বাবাকে পাশে নিয়েই শুভেন্দু বলেন, “আমরা ওড়িশার একজন মেয়েকে এখানে সুরক্ষিত রাখতে পারলাম না। আমরাও লজ্জিত, ক্ষমাপ্রার্থী।” তিনি পরিবারকে জানান, তাঁরা জানতে চেয়েছিলেন চিকিৎসায় পরিবার খুশি কিনা। পরিবার আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ভুবনেশ্বর এইমসে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতার নীরবতা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি শুনে আরও লজ্জিত, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী আসেননি, ফোনও করেননি। অথচ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি ফোন করে সহানুভূতি জানিয়েছেন। ছাত্রীর ভবিষ্যতের ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন।”

ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার, ৮০ লক্ষ টাকার ভর্তি বাতিল?
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, নির্যাতিতার বাবা-মা তাঁর কাছে একটি গুরুতর বিষয় জানিয়েছেন— তাঁরা আর তাঁদের মেয়েকে এই কলেজে রাখতে চাইছেন না। প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করে ভর্তি হওয়া দ্বিতীয় বর্ষের এই ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার। শুভেন্দু তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি নির্যাতিতার বাড়িতে জলেশ্বরেও যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত এখনও অধরা, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। এদিন জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরাও নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। তবে শুভেন্দু অধিকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তাই জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা আদৌ দেখা করতে পারবেন কিনা, সেই প্রশ্নও থাকছে।