আইফোনের পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে তাৎক্ষণিক যা করবেন, জেনেনিন বিস্তারিত

ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার জন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হলেও, বর্তমান সময়ে ডেটা ফাঁসের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। অ্যাপল নিজেই সতর্ক করেছে যে, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২.৬ বিলিয়ন ব্যক্তিগত রেকর্ডের সঙ্গে আপস করা হয়েছে, যার মধ্যে বহু তথ্য সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে গেছে। অতএব, যদি আপনি আপনার আইফোনে পাসওয়ার্ড ফাঁসের বিষয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি (Notification) পান, তবে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।
আপনার করণীয় ৪টি জরুরি পদক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
১. দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন:
যদি ডেটা ফাঁসের বিষয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি পান, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব সেই পাসওয়ার্ডটি পরিবর্তন করুন। এটি করলে বড় ধরনের ক্ষতি প্রতিরোধ করা যেতে পারে। পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের জন্য, আপনার আইফোনের অ্যাপল পাসওয়ার্ড অ্যাপের (Apple Passwords App) সিকিউরিটি বিভাগে যান। সেখানে ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ডগুলো তালিকাভুক্ত দেখতে পাবেন। এরপর “পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন” (Change Password) বিকল্পে প্রেস করে আপনার পাসওয়ার্ড আপডেট করুন।
২. টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (Two-Factor Authentication) সক্রিয় করুন:
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন আপনার অ্যাকাউন্টে সুরক্ষার আরেকটি স্তর যুক্ত করে। এটি সক্রিয় থাকলে আপনার পাসওয়ার্ড ছাড়াও অতিরিক্ত যাচাইকরণের (Verification) প্রয়োজন হবে। এর জন্য সাধারণত আপনার ফোন বা ই-মেইলে একটি কোড পাঠানো হয়। ফলস্বরূপ, পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন আপনার অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখতে অত্যন্ত সহায়ক।
৩. অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভিটি পর্যালোচনা করুন:
যদি আপনার পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত আপনার অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভিটি (Activity) বা গতিবিধি পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করুন যে, কোনও সন্দেহজনক লেনদেন, অননুমোদিত লগইন, অথবা আপনার অ্যাকাউন্ট সেটিংসে কোনও পরিবর্তন হয়েছে কি না। যদি আপনি সন্দেহজনক কিছু দেখতে পান, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন, যেমন—অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা বা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে জানানো।
৪. পাসওয়ার্ড ম্যানেজার (Password Manager) ব্যবহার করুন:
অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড অপরিহার্য, কিন্তু সব পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। এগুলি পাসওয়ার্ডগুলোকে একটি এনক্রিপ্ট করা ভল্টে (Encrypted Vault) সংরক্ষণ করে, যার ফলে প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য জটিল ও অনন্য পাসওয়ার্ড বজায় রাখা সহজ হয় এবং ডেটা ফাঁসের ঝুঁকি কমে।