আফগানিস্তানের পাল্টা হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তান! ২৬ পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু, সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষের পর উত্তেজনা

দুই দিন আগে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনার পর সীমান্তে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। এর মোক্ষম জবাব দিতে শনিবার রাতে আফগান সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। রবিবার পাকিস্তান সেনা নিশ্চিত করেছে যে, আফগান তালিবানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে তাদের অন্তত ২৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ২৯ জন আহত।

আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে অবশ্য আরও গুরুতর দাবি করা হয়েছে। তারা জানিয়েছিল, এই হামলায় ৫৮ পাকিস্তানি সেনা মারা গেছে এবং সীমান্তে ২৫টি পাকিস্তানি চৌকি দখল করা হয়েছে।

সংঘাতের স্থান ও পাকিস্তানের দাবি:

শনিবার রাতে ডুরান্ড লাইনের কাছে কুরাম জেলার গাভি অঞ্চলে পাকিস্তান এবং আফগান সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তান সীমান্তে দুই বাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময় ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষেরই ক্ষতি হয়েছে।

পাকিস্তানের বক্তব্য: পাক সেনা দাবি করেছে, আফগান তালিবান কোনো উসকানি ছাড়াই হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে চালানো পাল্টা হামলায় ২০০ জনেরও বেশি তালিবান যোদ্ধা ও সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

দখল: পাকিস্তানি সেনা আরও দাবি করেছে যে, তারা সাময়িকভাবে ২১টি শত্রু ঘাঁটি দখল করেছে। পাকিস্তান বলেছে, তারা সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা করেনি, বরং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে।

তালিবানের পালটা অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি:

সীমান্তে এই উত্তেজনা বৃদ্ধির পর পাকিস্তান খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানে আফগানিস্তান সংলগ্ন সমস্ত সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা করে কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

অন্যদিকে, আফগান তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সতর্ক করেছে যে, পাকিস্তান যদি আবারও আফগানিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করে, তবে আফগান সশস্ত্র বাহিনী দেশের সীমান্ত রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং কঠোর জবাব দেবে।

আফগান তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান তার নিজের জমিতে আইএসআইএস (ISIS)-কে আশ্রয় দিচ্ছে,” কিন্তু আফগানিস্তান তা করতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আফগানিস্তানের আকাশসীমা ও স্থলসীমা রক্ষা করার অধিকার তাদের রয়েছে।