ট্রেন ধরতে গিয়ে হুড়োহুড়ি, স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে গুরুতর জখম ৭ যাত্রী

রবিবার বিকেলে বর্ধমান রেল স্টেশনে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ৭ জন যাত্রী গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি। ট্রেন ধরার তাড়াহুড়োয় যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। তবে রেলের তরফে প্রাথমিকভাবে মাত্র ২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, বরাতজোরে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রেল যাত্রী ও রেল পুলিশ সূত্রে খবর, বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ হলদিবাড়ি এক্সপ্রেস ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢুকছিল। একই সময়ে ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের হাওড়া মেন লাইনে একটি লোকাল ট্রেন দাঁড়িয়েছিল। একদল যাত্রী এক্সপ্রেস থেকে নেমে ওভারব্রিজ দিয়ে স্টেশনের বাইরে যাচ্ছিলেন, অন্যদিকে আরেক দল ওভারব্রিজ ব্যবহার করে হাওড়া লোকাল ধরার জন্য প্ল্যাটফর্মে যাচ্ছিলেন।
ওভারব্রিজের সিঁড়িতে সেই সময় অতিরিক্ত ভিড় ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সবাই যখন হুড়োহুড়ি করছেন, তখন সিঁড়ির উপরেই এক মহিলা পড়ে যান। কিন্তু ভিড় না থামায়, তাঁর গায়ের উপর দিয়ে অন্যান্য যাত্রীরা নামতে শুরু করেন। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীরা চিৎকার শুরু করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়িতে বেশ কয়েকজন যাত্রী পড়ে গিয়ে গুরুতর জখম হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অন্তত ৭ থেকে ১০ জন যাত্রী জখম হয়েছেন।
ঘটনার সময় ওভারব্রিজেই উপস্থিত ছিলেন অরূপ রায়, যিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে শক্তিগড় যাচ্ছিলেন। তিনি জানান, ‘ট্রেন ডাউন থেকে আপে ঢুকেছিল। আমরা লোকাল ধরার জন্য ছুটছিলাম। সেই সময়েই ওভারব্রিজে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।’ তিনি এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। পদপিষ্ট হয়ে অরূপের স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অরূপ নিজেও হাতে চোট পেয়েছেন। তিনিও ৭ থেকে ১০ জন যাত্রী জখম হওয়ার দাবি করেছেন।
খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তারাই আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহতদের মধ্যে ২ জনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। তবে রেল পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।