“সমানে সমানে আসন ভাগাভাগি”-বিহারে চূড়ান্ত হলো NDA-র সমঝোতা

আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঐতিহাসিক আসন ভাগাভাগি করল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA)। জোটের দুই প্রধান দল—ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এবং জনতা দল ইউনাইটেড (JDU)—একটিও কম-বেশি না করে সমান ১০১টি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
শনিবার দিল্লিতে দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দীর্ঘ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমবন্টন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিহারের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘বড়ে ভাই-ছোটে ভাই’ তত্ত্বের আনুষ্ঠানিকভাবে অবসান ঘটল, যেখানে এতদিন জেডিইউকে ‘বড়ে ভাই’ এবং বিজেপিকে ‘ছোটে ভাই’ বলে ঠাট্টা করা হত। বিহার বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ জয়সওয়াল আগেই এই সমবন্টনের ইঙ্গিত দিয়ে তত্ত্বটি ঘুচিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
এনডিএ জোটে অন্যান্য শরিক দলগুলির আসন সংখ্যাও নির্ধারিত হয়েছে। চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) (LJP) ২৯টি আসনে লড়বে। উপেন্দ্র কুশওয়াহার রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা (RLM) পেয়েছে ৬টি আসন এবং জিতনরাম মাঁঝির হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (HAM)-কেও ৬টি আসন দেওয়া হয়েছে।
সমান আসন ভাগাভাগি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যখন জোর চর্চা চলছে, তখন ছোট শরিক দলগুলির প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (HAM)-এর নেতা জিতনরাম মাঁঝি তাঁর দলের জন্য ৬টি আসন বরাদ্দ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “লোকসভা নির্বাচনে আমরা একটিমাত্র আসন পেয়েছিলাম। তখনও অসন্তুষ্ট হইনি। এবার ৬টি আসন পেয়েছি। এটা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, আমরা সেটাই মেনে নিচ্ছি।” তিনি আরও যোগ করেন, চিরাগকে ২৯টি আসন বা অন্য কোনও দলকে বেশি আসন দেওয়া হোক না কেন, এগুলি সবই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং এ নিয়ে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই।
বিহারের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপি এবং জেডিইউর মধ্যে এই ১০১:১০১ সমবন্টন দুই দলের সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনল। এর ফলে, আগামী নির্বাচনে দুই দলই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পূর্ণ শক্তিতে লড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ছোট দলগুলির জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন বরাদ্দ করে এনডিএ-তে দুই প্রধান দলের ভিতকে আরও মজবুত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশেই এনডিএ-র আসন ভাগাভাগি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল। এবার ভোটযুদ্ধে এই নতুন সমীকরণের ফলাফল কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়।