ট্রফি বিতর্কে চরম সংঘাত! মহসিন নকভিকে ICC ডিরেক্টর পদ থেকে সরাতে চাইছে BCCI, চাপ বাড়ছে পাকিস্তানের

এশিয়া কাপের ফাইনালে বিজয়ী দল ভারতকে ট্রফি না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) প্রেসিডেন্ট মহসিন নকভির বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে আইসিসি (ICC)। নকভির আচরণের জন্য তাঁকে আইসিসি ডিরেক্টরের পদ থেকে সরানোর দাবি জানানোর ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, নকভির ভারত-বিরোধী আচরণ এবং ভারতীয় দলের কাছে ট্রফি হস্তান্তরে অস্বীকার করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিসিসিআই। নকভি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে। সূত্র মারফৎ জানা গেছে, তাঁকে আইসিসি ডিরেক্টর পদ থেকে নিষিদ্ধ করার জন্য বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় বোর্ড।
নকভি-কে সরাতে মরিয়া BCCI
এশিয়া কাপ ফাইনালের পর মহসিন নকভির আচরণ ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত। ভারতীয় দল তাঁর হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করলে, নকভি সেই ট্রফি নিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যান।
পরে বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে এশিয়া কাপ জয়ী ভারতীয় দলের জন্য ট্রফিটি বোর্ডের সদর দফতরে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু নকভি তাতে রাজি হননি। তিনি শর্ত দেন যে, একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে তিনিই ট্রফি হস্তান্তর করবেন। বিসিসিআই অবশ্য এই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দেয়।
এরপরই নকভি কড়া নির্দেশ দেন যে, ট্রফিটি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) দুবাই অফিসে রাখতে হবে এবং তাঁর উপস্থিতি ছাড়া অন্য কাউকে তা হস্তান্তর করা যাবে না।
কেন ট্রফি নিতে অস্বীকার করেছিল ভারত?
ট্রফি বিতর্কের মূলে রয়েছে মহসিন নকভির ভারত-বিরোধী মন্তব্য। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ সামরিক অভিযানের সময় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নকভি একাধিক ভারত-বিরোধী মন্তব্য করেছিলেন। মূলত, তারই প্রতিবাদে ভারতীয় ক্রিকেটাররা নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করেন।
নকভি ট্রফি না দিয়ে ফিরে যাওয়ায় ভারতীয় ক্রিকেটাররা শেষ পর্যন্ত ট্রফি ছাড়াই এশিয়া কাপ জয়ের সেলিব্রেশন সারেন।
আইসিসি-তে কী হতে পারে?
বিসিসিআই-এর এই দাবি যদি আইসিসি মেনে নেয়, তবে তা মহসিন নকভির জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক ধাক্কা হবে। বর্তমানে যেহেতু বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সচিব জয় শাহ এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) চেয়ারম্যান, তাই ক্রিকেট মহলের একাংশের ধারণা, আইসিসি এক্ষেত্রে বিসিসিআই-এর দাবির পক্ষে ইতিবাচক অবস্থানই নেবে। এই ঘটনা ক্রিকেট প্রশাসনে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও খারাপের দিকে নিয়ে গেল।