পাকিস্তানে ফের ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, এ বার টার্গেট পুলিশ ট্রেনিং স্কুল

ঘরের অন্দরে জঙ্গি হামলার মুখে পুরোপুরি বিপর্যস্ত পাকিস্তান। এবার তেহেরিকি-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) জঙ্গিরা দেশটির পাখতুনখাওয়া প্রদেশের একটি পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে আত্মঘাতী হামলা চালাল। যদিও পুলিশ সময়মতো প্রতিআক্রমণ করে হামলাটি প্রতিহত করেছে। তবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তিনজন পুলিশকর্মী শহিদ হয়েছেন এবং ছয়জন জঙ্গিরও মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গিরা ট্রেনিং স্কুলে ঢুকে একটি বড় ধরনের আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আক্রমণের আগেই পুলিশ বিষয়টি আঁচ করে পাল্টা অপারেশন শুরু করে। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ডেরা ইসমাইল খানের নেতৃত্বে এই সফল অভিযান চালানো হয়।

মসজিদেও হামলা, বাড়ছে গোষ্ঠী-সংঘাত

একদিকে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে হামলা, অন্যদিকে দেশের ভেতরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপরও আক্রমণ চালাচ্ছে জঙ্গিরা। পাঞ্জাব প্রদেশের চেনাব শহরে বেইট-উল মাহদি মসজিদে নামাজ চলাকালীন আমাদি গোষ্ঠীর উপর হামলা চালানো হয়। এই হামলায় বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক আহত হন এবং একজন হামলাকারীও নিহত হয়।

TTP-র সক্রিয়তা ও আফগানিস্তানের দিকে অভিযোগ

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানে TTP অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সুযোগ পেলেই বড় ধরনের হামলা চালাচ্ছে, যাতে দুই পক্ষেই প্রাণহানি হচ্ছে। এই জঙ্গি হামলার পিছনে আফগানিস্তানের তালিবানের যোগসাজশ রয়েছে বলে পাকিস্তানি পুলিশ মনে করছে। তাই তারা আফগান সরকারকেও এই পরিস্থিতির জন্য দোষারোপ করছে।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিস্থিতি: চাপে শেহবাজ ও মুনির

ভারতে জঙ্গি হামলা চালানোর পর এখন নিজেদের ঘরেই চরম সংকটের মুখে পাকিস্তান। প্রায় প্রতিদিনই জঙ্গি হামলার খবর আসছে। পুলিশ, সেনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট মুসলিম গোষ্ঠীর উপরও আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে। এর সঙ্গে পাক অধিকৃত কাশ্মীরেও (POK) রক্তক্ষয়ী আন্দোলন চলছে, যার ঢেউ ইসলামাবাদ পর্যন্ত এসে পৌঁছাচ্ছে। পরিস্থিতি যে দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে, তা স্পষ্ট। জঙ্গি হামলা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিরস্ত্র মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান অসীম মুনির উভয়েই চরম চাপের মুখে রয়েছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বের হতে তাঁরা কী কৌশল নেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।