বিশেষ: বিয়ের আগে কনের বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার করতে হয় বরকে, জেনেনিন কোথায় ?

‘এক বিয়ের একশ কথা’। কথায় আছে একটি বিয়ে নাকি ১০০ কথা না হলে সম্পন্ন হয় না। আমাদের দেশে তো বটেই সামাজিক এই উৎসব নিয়ে পুরো বিশ্বেই আছে নানান সংস্কৃতি। হলুদ, মেহেদি, বিয়ে, বৌভাত কত আয়োজন এক বিয়েকে কেন্দ্র করে। আত্মীয়-স্বজনে বাড়ি গমগম করে বাঙালি বিয়েতে।

শুধু বাঙালি বিয়েতেই নয়, বিশ্বের সব দেশেই বিয়ের অনুষ্ঠান ধুমধাম করে করা হয়। থাকে আরও কত রকম রীতিনীতি। বর-কনের জন্য তো বটেই আত্মীয়-স্বজনরাও পালন করেন বিভিন্ন রীতিনীতি। যেমন চীনের তুজিয়া প্রদেশে বিয়ের আগে কনেকে টানা একমাস প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কাঁদতে হয়। এর সঙ্গে কনের পরিবারের কোনো নারী আত্মীয় থাকলে তাদেরকেও কান্নার উৎসবে যোগ দিতে হয়।

মনে করা হয়, যেহেতু বিবাহ একটি শুভকাজ তাই কান্নার মাধ্যমে কনে তার মনের আনন্দ প্রকাশ করে। কান্নার মাধ্যমে সে নতুন এই অধ্যায়কে স্বাগত জানায়। আবার আলাদা সুরে কান্না করতে পারলে আরও ভাল।

জার্মানিতে বিয়ের রীতি আরও অদ্ভুত। বিয়ের আগে বরকে কনের বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার করতে হয়। এই রীতি যেমন অদ্ভুত তেমনি মজারও। নিয়ম হচ্ছে বিয়ের আগের রাতে কনের বান্ধবীরা ঘরের কাপ, থালা-বাসন সব ছুঁড়ে ফেলবে বাড়ির সামনে। চারদিক থাকবে ভাঙা কাচের টুকরোতে ঢাকা।

থালা-বাটি-গ্লাস থেকে ফুলদানি, বাদ যাবে না কোনো কিছুই। যত কাচ, সিরামিকের থালা-বাসন আছে সব ভাঙতে হবে। এই ভেঙে যাওয়া কাচের জিনিসপত্র সৌভাগ্য আনতে সাহায্য করে বলেই বিশ্বাস জার্মানিদের। এরপর এই সব কাচের ভাঙা টুকরো পরিষ্কার করবে বর। সঙ্গে কনেও থাকবে। সাহায্য করবে হবু বরকে। একে বিয়ের অংশ বলেই মনে করা হয় সেখানে। জার্মানির প্রায় সব বিয়ের ক্ষেত্রেই এই পল্টারবেন্ড পালন করা হয় বেশ উৎসবের আমেজেই।

পল্টারবেন্ড ছাড়াও জার্মানদের বিয়েতে আছে আরও অনেক মজার রীতি। যেমন বিয়ের পর ওড়নার নিচে বরকনের আজব নাচ, বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কনের কাঠ চেরাই করাও এদেশে বিয়ের রীতিরই অংশ। মূলত বরকনেকে একসঙ্গে এসব কাজ করানো হয় এটা দেখার জন্য যে ভবিষ্যতে তারা যে কোনো বিপদে একসঙ্গে থাকতে পারবে কি না। এছাড়া তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া কেমন হবে, তা নির্ধারণ করতেই এই কাঠ চেরাইয়ের রীতি পালন করা হয়।

স্কটল্যান্ডে বিয়ের রয়েছে আরও অদ্ভুত ও মজার একটি রীতি। তারা আবর্জনা পরিষ্কার করে না, গায়ে মাখে। বিয়ে নিয়ে প্রতিটি মেয়েরই নিজস্ব পরিকল্পনা থাকে। সবাই চায় সেইদিন তাকে যেন সবার চেয়ে অন্যরকম লাগুক। নিজের স্বপ্নের মতন করে নিজেকে অপরূপা করে তুলতে চায়। আর তার প্রস্তুতিও শুরু হয় আগেভাগেই। স্কটল্যান্ডের কনেদের মনে বাসনা থাকে কত বেশি আবর্জনা শরীরে মাখা যায়।

হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন, স্কটল্যান্ডে বিয়ের আগে হবু বউকে তার বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনরা গাছের সঙ্গে বেঁধে দেয়। তারপর ইচ্ছামতো তার শরীরে ময়লা, আবর্জনা ঢালতে থাকবে। আবর্জনার তালিকায় আছে পচা মাছ, পচা পনির, কালি এবং আরও যত নোংরা জিনিসপত্র আছে।

এই রীতি তারা বেশ উপভোগও করে। মাঝে মাঝে বরকেও কনের সঙ্গী হতে দেখা যায়। এই রীতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এটি দেখা, যে বর কনে ভবিষ্যতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে কতটা ধৈর্য্যশীল হবে। তারা যদি এমন পরিস্থিতি সামলে নিতে পারে, তাহলে বিয়ে টিকিয়ে রাখার পথে আসা যে কোনো বাধা পেরিয়ে যেতে পারবে।

সূত্র: জার্মান কালচার, পিনটারেস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *