বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান! উন্নত AIM-120 মিসাইল বিক্রির খবর ‘ভুয়ো’, কড়া বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট জানাল আমেরিকা

বহু মহলে যে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, এবার তা সরাসরি অস্বীকার করে বড় ধাক্কা দিল আমেরিকা। পাকিস্তানকে উন্নত AIM-120 এয়ার টু এয়ার মিসাইল বিক্রির অনুমোদনের খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করল মার্কিন দূতাবাস। ইন্ডিয়া টুডের একটি রিপোর্ট অনুসারে, মিসাইল বিক্রির অনুমোদন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সব খবরকে ‘ভুয়ো’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে ট্রাম্পের দেশ।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদকে AIM-120 উন্নত এয়ার টু এয়ার মিসাইল বিক্রি নিয়ে অনুমোদনের খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে আমেরিকান দূতাবাস। আমেরিকার তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, “বিগত বেশ কিছুদিন ধরে পাকিস্তানকে উন্নত মিসাইল সরবরাহ নিয়ে আমেরিকার যে অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়েছিল তা সম্পূর্ণ ভুয়ো। নতুন উন্নত মাঝারি পাল্লার এয়ার টু এয়ার মিসাইল পাকিস্তানকে সরবরাহের জন্য নয়।”

তবে দূতাবাস এও জানিয়েছে, মিডিয়া রিপোর্টে উল্লেখিত চুক্তিটি পাকিস্তান সহ বেশ কিছু দেশের রক্ষণাবেক্ষণ এবং খুচরো যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য। অর্থাৎ পাকিস্তানি বিভিন্ন মিসাইলের মজুদ বাড়ানোর বিষয়টি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। কিন্তু এটি নতুন করে মিসাইল বিক্রির চুক্তি নয়।

অন্যদিকে, রিপোর্ট যা বলছে তাতে, নতুন চুক্তির অধীনে আমেরিকান কোম্পানি রেথিয়নকে উন্নত এয়ার টু এয়ার মিসাইল অর্থাৎ AIM-120C8 এবং D3 সংস্করণের মিসাইল তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নত সংস্করণের এই মিসাইলগুলি তৈরি করতে হবে আমেরিকান সংস্থাকে।

সূত্রের খবর, উন্নত মিসাইল তৈরির জন্য প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সালের ৩০ মে তারিখের মধ্যে ওই কোম্পানিটিকে মিসাইলগুলির উন্নত সংস্করণ তৈরির কাজ শেষ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করে আসছিল যে সম্ভবত আমেরিকা বিশেষ চুক্তির অধীনে পাকিস্তানকে AIM-120 AMRAAM মিসাইল সরবরাহ করবে। ২০১০ সালে পাকিস্তান যখন আমেরিকা থেকে F-16 ব্লক ৫২টি যুদ্ধবিমান কিনেছিল, তখন সেগুলোর সঙ্গেই AIM-120C 5 মিসাইলও কিনেছিল। সেই থেকেই জল্পনা বাড়ে। তবে এবার আমেরিকার দূতাবাস সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, এই চুক্তির অধীনে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীকে নতুন করে কিছু বিক্রি করা হবে না এবং পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এমন কোনও পদক্ষেপ আমেরিকা এখনই নেবে না।