ডিভিসি’র ছাড়া জলে ডুবল খানাকুল! মুণ্ডেশ্বরী-রূপনারায়ণের জেরে একাধিক গ্রাম প্লাবিত, বাড়ছে দুর্ভোগ

একদিকে লাগাতার বৃষ্টি এবং অন্যদিকে ডিভিসি (DVC)-র ছাড়া জলে হুগলি জেলার খানাকুলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। মুণ্ডেশ্বরী ও রূপনারায়ণ নদীর জলস্তর ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সোমবার খানাকুলের দুটি পঞ্চায়েত এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করলেও, মঙ্গলবার আরও একটি পঞ্চায়েত এলাকায় প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
খানাকুলের মাড়োখানা, জগৎপুর ও খানাকুল-২ পঞ্চায়েত এলাকার বহু গ্রামে জল ঢুকে গিয়েছে। বিস্তীর্ণ চাষের জমি ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি নিচু এলাকার একতলা বাড়িগুলোতেও জল ঢুকেছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বাড়ছে দুর্ভোগ
গ্রামের রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় জনজীবন স্তব্ধ। নতুন করে শুরু হয়েছে দুর্ভোগ:
বাস চলাচল বন্ধ: মাড়োখানা বাজার থেকে পানশিউলি বাজার যাওয়ার রাস্তায় জল উঠে যাওয়ায় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
নৌকা ভরসা: পানশিউলি বাজারে হাওড়া-হুগলি যোগাযোগের বাঁশের সেতু খুলে নেওয়ায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা।
প্লাবিত গ্রাম: মাড়োখানা, হানুয়া, জগৎপুর, বারনন্দনপুর, কাকনান-সহ একাধিক গ্রামে জল ঢুকে গিয়েছে।
চাষের জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় এই সময়কার উপযুক্ত সবজি চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ কিছুটা কমালেও তা এখনও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে মুণ্ডেশ্বরী ও রূপনারায়ণ নদীর জল এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়েই বইছে। তাই খানাকুলের নিচু এলাকার মানুষজনের এখনই এই বন্যা পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি মেলার কোনো সম্ভাবনা নেই।