বিহার জয়ের লক্ষ্য নিয়ে কংগ্রেসের কৌশল পরিবর্তন, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এলেন অজয় রাই

বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (২০২৫ সালের শেষে) জন্য বড়সড় কৌশলগত পরিবর্তন আনল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস ইউনিটের সভাপতি অজয় রাইকে এবার বিহার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল করা হয়েছে। বিহারে মহাগঠবন্ধনকে (কংগ্রেস, আরজেডি, বামপন্থী) শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজেপি থেকে কংগ্রেসে আসা এবং বারাণসী থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তিনবার লোকসভা নির্বাচনে লড়ার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অজয় রাইয়ের নিয়োগকে হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলিতে কংগ্রেসের কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিহারের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠতা’ এবং লক্ষ্যের বার্তা
নিজের নিয়োগের পর অজয় রাই বিহারের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বিহারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আছে, আমি বিহারের কাছাকাছি।” মহাগঠবন্ধনকে জেতানোর বিষয়ে তিনি দৃঢ় বিশ্বাসী:
“প্রত্যেক কর্মী কঠোর পরিশ্রম করবে। তারা নির্যাতনের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করবে। মহাগঠবন্ধন সরকার গঠন করবে… আমরা সেখানে একসঙ্গে কাজ করব।”
তিনি জানান, গত নির্বাচনের মতোই আসন সংখ্যায় কংগ্রেস লড়াই করবে, তবে এবার লক্ষ্য জয়। নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
জোটবদ্ধ করার মাস্টারপ্ল্যান: ভূমিহার ভোট
অজয় রাইয়ের এই নিয়োগ বিহারের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বাঞ্চলে ভূমিহার সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর প্রভাবের কারণে মহাগঠবন্ধন এই জোটকে আরও সুসংগঠিত করতে চাইছে।
বিহারে নীতীশ কুমারের জেডিইউ এবং বিজেপির জোট সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল ক্ষোভ রয়েছে বলে দাবি করেছেন রাই। তাঁর অভিযোগ:
কৃষকদের কষ্ট: সারের দাম বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা দুর্দশায়।
বেকারত্ব: যুবকরা বেকারত্বের শিকার।
আইন-শৃঙ্খলার অবনতি: নারী-শিশুর ওপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে।
বিহার কংগ্রেস ইউনিটের সভাপতি মদন মণ্ডল বলেছেন, “রাইয়ের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য অস্ত্র। তিনি উত্তরপ্রদেশ থেকে বিহারের সীমান্তবর্তী এলাকায় কংগ্রেসকে শক্তিশালী করবেন।” মহাগঠবন্ধনের নেতা তেজস্বী যাদবও রাইয়ের যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, “রাইয়ের যোগদান আমাদের লড়াইকে নতুন শক্তি দেবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অজয় রাইয়ের নিয়োগ বিহারের নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন আনতে পারে।