Google-AI নিয়ে বাড়ছে চিন্তা, কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে প্রকাশকরা!

বিশ্বের বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন গুগল তার প্ল্যাটফর্মে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) যুক্ত করে যে ‘গুগল ওভারভিউ’ ফিচারটি এনেছে, তা এখন ওয়েবসাইট প্রকাশক এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবহারকারীরা এখন কোনো কিছু সার্চ করলেই AI প্রথমে একটি সারমর্ম বা সংক্ষিপ্ত উত্তর তুলে ধরছে। এতে পাঠকের কাজ সহজ হলেও, লেখক ও প্রকাশকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।

দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই গুগলের এই ওভারভিউ দেখেই সন্তুষ্ট হয়ে চলে যাচ্ছেন। তাঁরা গুগলের সাজেস্ট করা কোনো ওয়েবসাইটে আর ক্লিক করছেন না। এর ফলে ওয়েবসাইটগুলোর ক্লিক-থ্রু রেট (CTR) এবং ট্র্যাফিক মারাত্মকভাবে কমে আসছে, যার জেরে প্রকাশকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ক্ষতির কথা জানিয়ে সরব জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলো

এই ক্ষতির কথা প্রকাশ্যে এনেছেন জনপ্রিয় ওয়েবসাইট উইকিহাউ (WikiHow)। উইকিহাউ-এর সিইও এলিজাবেথ ডগলাস জানিয়েছেন, গুগলের এই AI সারাংশ তাঁদের সাইট থেকে লাখ লাখ দর্শককে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, যা তাঁদের ব্যবসা লাভজনক রাখা কঠিন করে তুলছে।

একই অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন একাধিক বড় প্রতিষ্ঠান:

  • রোলিং স্টোন ও বিলবোর্ড: জনপ্রিয় ম্যাগাজিন রোলিং স্টোন, বিলবোর্ড এবং ভ্যারাইটির মালিকানাধীন পেনস্কে মিডিয়া গুগলের AI ওভারভিউয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের দাবি, গুগল অনুমতি ছাড়াই তাদের কনটেন্ট ব্যবহার করছে, যার ফলে ভিজিটর কমছে এবং আয় হ্রাস পাচ্ছে।
  • চেগ (Chegg): মার্কিন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম চেগও (Chegg) মামলা দায়ের করেছে। তারা বলেছে, গুগলের AI ওভারভিউগুলো কোনো অর্থ প্রদান ছাড়াই তাদের সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক কনটেন্ট ব্যবহার করছে, যা ট্র্যাফিক কমিয়ে সাবস্ক্রিপশন ব্যবসায় ক্ষতি করছে।

এটি গুগল-এর AI সার্চ ফিচারের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রধান কোনো প্রকাশকের করা প্রথম বড় মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

কেন বিতর্ক ও কী আশঙ্কা?

প্রকাশকদের যুক্তি, AI ওভারভিউগুলো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তাদের তৈরি করা মূল্যবান বিষয়বস্তুকে অন্যায়ভাবে পুনঃপ্রয়োগ করছে। এর ফলে কপিরাইট এবং ন্যায্যতার প্রশ্ন উঠছে। লেখকরা বলছেন, এভাবে তাদের কাজের অবমূল্যায়ন হলে উচ্চমানের কনটেন্ট তৈরি করার উৎসাহ কমে যাবে।

তাছাড়া, AI ওভারভিউতে প্রায়শই গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট বাদ দেওয়া হয়, তথ্য অতিরঞ্জিত করা হয়, বা পুরোনো উৎস ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ব্যবহারকারীরা ভুল তথ্য পেতে পারেন, যা গুগলের দেওয়া উত্তরের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

নিয়ন্ত্রকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যদি সুবিধা এবং ন্যায্যতার মধ্যে দ্রুত কোনো ভারসাম্য না আসে, তবে উচ্চমানের কনটেন্টের ‘ওপেন ওয়েব’ ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।