আখের দাম ‘আকাশ ছোঁয়া’! প্রতি পিস ৮ থেকে ১৫ টাকা, বন্যা-বিপর্যয়ের বাজারেও কেন ভাগ্য ফিরল কৃষকদের?

একদিকে যখন টানা বৃষ্টি আর বন্যায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত, তখন উৎসবের মরশুমে আখ চাষিদের মুখে চওড়া হাসি। লক্ষ্মীপুজোর আগে আখ বিক্রি করে তাঁরা ঘরে তুলছেন বিপুল লাভ, যা স্থানীয়ভাবে ‘লক্ষ্মীলাভ’ নামে পরিচিত।
পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার আখচাষিরা জানাচ্ছেন, পাইকারি বাজারে এই মুহূর্তে প্রতি পিস আখের দাম মিলছে ৮ টাকা থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। এই ভালো দাম পাওয়ায় তাঁরা দারুণ খুশি।
এক বিঘায় লাখ টাকার মুনাফা
আখচাষিরা জানাচ্ছেন, অন্য ফসলের তুলনায় আখ চাষে লাভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এক বিঘা জমিতে আখ চাষে খরচ হয় মোটামুটি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
কিন্তু সেই আখ বিক্রির সময়ে তাঁরা লাভ ঘরে তুলছেন প্রায় এক লক্ষ টাকার কাছাকাছি।
ফলস্বরূপ, একই জমিতে আখের মতো ফসল ফলিয়ে কৃষকরা দ্বিগুণ মুনাফা পাচ্ছেন।
কালনা মহকুমার নাদনঘাট থানার গোয়ালপাড়া রাজ্যের অন্যতম বড় আখের পাইকারি বাজার। এই বাজার থেকে আখ যায় কলকাতা, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, মালদা ছাড়াও বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত। স্থানীয় আখচাষি সাহেব আলি শেখ বলেন, “এবার আখের খুব ভালো দাম মিলছে, যা অপ্রত্যাশিত।” আরেক চাষি শেখ সের মণ্ডলের কথায়, “আখ চাষে পরিশ্রম বেশি ঠিকই, কিন্তু লাভও তার চেয়ে অনেক বেশি।”
লক্ষ্মীপুজো ছাড়াও সামনেই রয়েছে ছটপুজো, যেখানে আখের চাহিদা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে চাষিরা আশা করছেন, আগামী দিনেও আখের বাজার ভালো থাকবে এবং লাভের অঙ্ক আরও বাড়বে। সবমিলিয়ে, এই উৎসব মরশুমে আখ চাষই যেন কৃষকদের জন্য সোনা ফলিয়েছে।