“পূর্ণতা পাচ্ছে জ়ুবিনের শেষ স্বপ্ন”—গায়কের ঠিক করা দিনেই মুক্তি পাচ্ছে শেষ ছবি

অসমের কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের (Zubeen Garg) আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে যখন গভীর বিতর্ক চলছে এবং একের পর এক গ্রেফতারি হচ্ছে, ঠিক তখনই তাঁর সৃষ্টিশীলতা জীবন্ত করে তুলতে এক আবেগঘন ঘোষণা করা হলো। পরিচালক রাজেশ ভূঁইয়া নিশ্চিত করেছেন যে, জুবিনের স্বপ্নের প্রকল্প— ‘রই রই বিনালে’ নামের মিউজিক্যাল চলচ্চিত্রটি এই বছরের ৩১ অক্টোবর সারা দেশে মুক্তি পাবে।
এটি শুধুমাত্র একটি ছবি নয়, বরং প্রয়াত শিল্পীর প্রতি এক অন্তিম শ্রদ্ধাঞ্জলি যেখানে ব্যবহার করা হবে তাঁর নিজস্ব কণ্ঠে রেকর্ড করা মূল গানগুলো।
“তাঁর কণ্ঠেই মুক্তি পাবে ছবি”
পরিচালক রাজেশ ভূঁইয়া জানান, এই ছবিটির গল্প ও সুর— সবটাই জুবিন গর্গের নিজস্ব সৃষ্টি। এটি অসমের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সঙ্গীত নির্ভর চলচ্চিত্র।
- ভূঁইয়া বলেন, “জুবিনদা চেয়েছিলেন, ছবিটি ৩১ অক্টোবর মুক্তি পাক। তাই আমরা তাঁর ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে সেই দিনেই ছবিটি মুক্তি দিচ্ছি—শুধু অসমে নয়, সারা দেশে।”
- ছবির কণ্ঠস্বর নিয়ে তিনি জানান, “তাঁর কণ্ঠ আমরা ল্যাপেল মাইক্রোফোনে রেকর্ড করেছিলাম, ফলে ৮০-৯০% পরিষ্কার। তাই তাঁর আসল কণ্ঠই ব্যবহার করা হবে।”
জুবিন গর্গ ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে একটি উৎসবের পর সাঁতার কাটতে গিয়ে জলে ডুবে মারা যান। তাঁর অনুপস্থিতিতে ‘রই রই বিনালে’ যেন তাঁর সুর, গল্প ও কণ্ঠের মাধ্যমে অমরত্বের বার্তা দেবে।
মৃত্যু বিতর্ক: ‘বিষপ্রয়োগের’ অভিযোগ ও গ্রেফতারি
এদিকে, জুবিন গর্গের মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম রহস্য ও বিতর্ক। শিল্পীর ব্যান্ডসঙ্গী শেখর জ্যোতি গোস্বামী বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন যে, গায়ককে সিঙ্গাপুরে ‘বিষপ্রয়োগ’ করা হয়েছিল।
- গোস্বামী অভিযোগ করেন, গর্গের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা এবং উৎসবের সংগঠক শ্যামকানু মহন্ত “ইচ্ছাকৃতভাবে বিদেশি স্থান নির্বাচন করেছিলেন, যাতে তাঁদের ষড়যন্ত্র গোপন থাকে।” জুবিনের স্ত্রী গরিমার দাবি, “ওকে জোর করে সাঁতার কাটতে নামানো হয়েছিল।”
- পুলিশের হাতে থাকা সরকারি নথি অনুযায়ী, এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই শর্মা ও মহন্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জুবিনের ব্যান্ডসঙ্গী শেখর জ্যোতি গোস্বামী এবং সহগায়িকা অমৃতপ্রভা মহন্তকেও গ্রেফতার করেছে।
সিঙ্গাপুর পুলিশের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ ‘ডুবে যাওয়া’ বলা হলেও, আসাম পুলিশ তদন্তে খুনের মামলা (বিএনএস-এর ১০৩ ধারা) যুক্ত করেছে এবং আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মিলেছে বলে খবর। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ভুয়ো AI ছবি ছড়ালে কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।