বিজয়া দশমীতেই ‘ডিভিসি-সৃষ্ট দুর্যোগ’! মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে মাইথন-পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়ায় নিম্ন অববাহিকায় চরম আতঙ্ক।

মায়ের কৈলাসে ফিরে যাওয়ায় যখন চারিদিকে বিষাদের সুর, ঠিক তখনই দামোদরের নিম্ন অববাহিকার জেলাগুলির বাসিন্দাদের কপালে ভাঁজ। দুর্গাপূজা শেষ হতেই ফের বন্যার আশঙ্কা দানা বেঁধেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসনকে কোনো নোটিশ না দিয়েই একাদশীর সকাল থেকে DVC (দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন) দেড় লক্ষ কিউসেকেরও বেশি জল ছেড়ে দিয়েছে।

সরকারি এই কেন্দ্রীয় সংস্থাটির বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ষড়যন্ত্রে’র অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, “আমি কাউকে বাংলার বিসর্জন করতে দেব না।”

নোটিশ ছাড়াই জল ছাড়া, বাড়ল জলের পরিমাণ
এবার পুজোয় নিম্নচাপের বৃষ্টি কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। দশমীর দুপুর থেকে ফের টানা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় দামোদর নদের জলস্তর এমনিতেই বেড়েছিল। ঠিক এই সময় ডিভিসি জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রথম ধাপে জল ছাড়া: একাদশীর দিন সকাল ৮টা নাগাদ মাইথন থেকে ৪২,৫০০ কিউসেক এবং পাঞ্চেত থেকে ২৭,৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়।

দুর্গাপুর ব্যারেজ: সকাল ৭টায় দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে প্রায় ৫৯ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়, যা বেলা ১২টার মধ্যে ৬৭ হাজারের বেশি কিউসেক হয়ে যায়।

বিশাল বৃদ্ধি: মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া শেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিভিসি কর্তৃপক্ষ মাইথন এবং পাঞ্চেত বাঁধ ইত্যাদি থেকে মোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে।

‘ডিভিসি কর্তৃক সৃষ্ট দুর্যোগ’: ক্ষুব্ধ মমতা
জল ছাড়ার ঘটনা সামনে আসার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে একাধিক পোস্টে কেন্দ্রীয় সংস্থাটিকে তীব্র নিশানা করেন।

তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে শান্তিতে উৎসব শেষ করতে দেওয়ার বদলে, ডিভিসি কর্তৃপক্ষ রাজ্যকে কোনও আগাম বার্তা না-দিয়ে ৬৫ হাজার কিউসেক জল ছেড়ে দিয়েছে।”

মমতা আরও লেখেন, “এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ লজ্জাজনক এবং একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তাঁর অভিযোগ, এই কাজটি “আমাদের পবিত্র উৎসবে দুর্দশা সৃষ্টির প্রচেষ্টার চেয়ে কম কিছু নয়।”

মুখ্যমন্ত্রী এটিকে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, ডিভিসি কর্তৃক সৃষ্ট দুর্যোগ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “অবহিত না-করে জল ছেড়ে দিয়ে, ডিভিসি বাংলার লক্ষ লক্ষ জীবনকে তাৎক্ষণিকভাবে বিপদের মধ্যে ফেলেছে।”

মুখ্যমন্ত্রীর শেষ বার্তায় কঠোর হুঁশিয়ারি ছিল, “উৎসবের সময় আমাদের পশ্চিমবঙ্গ যাতে প্লাবিত হয় তাই জল ছাড়া হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ যখন পুজার সমাপ্তি উৎসবে ব্যস্ত, তখন তাঁদের উপর দুর্যোগ নামিয়ে আনার জন্য এটি একটি ইচ্ছাকৃত চক্রান্ত।”