সেনাবাহিনীর পোশাক ছেড়ে অপরাধের পথে! রাজনীতির হাত ধরে মাদক ব্যবসায় নামা প্রাক্তন কমান্ডোর চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারি!

দেশের অভিজাত সন্ত্রাস দমন বাহিনী ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG)-এর একজন প্রাক্তন কমান্ডো কিভাবে মাদক পাচারের বিশাল চক্রের মূল হোতা হতে পারে? এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটিই সামনে এনেছে রাজস্থান পুলিশ। রাজ্যের চুরু জেলার রতনগড় থেকে বজরং সিং নামে ওই প্রাক্তন কমান্ডোকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই মাসের নজরদারি ও গোপন অভিযানের পর পুলিশ তার কাছ থেকে উদ্ধার করেছে প্রায় ২০০ কেজি গাঁজা।
গোপন ‘অপারেশন গাঁজা’ ও এনএসজি কমান্ডোর পর্দাফাঁস
রাজস্থান পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড (ATS) ও মাদকবিরোধী টাস্ক ফোর্স (ANTF) যৌথভাবে এই অভিযান চালায়, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন গাঁজা’। আইজিপি বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, বজরং সিং রাজ্যজুড়ে গাঁজা পাচারের একটি বড় চক্র পরিচালনা করত।
পুলিশ জানায়, সাবেক কমান্ডো বজরং দু’মাস ধরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা চোখকে ফাঁকি দিতে ভুয়া মোবাইল আইডি ব্যবহার করছিল এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে আত্মগোপন করে ছিল। অবশেষে, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের নিখুঁত সমন্বয়ে বুধবার রাতে তার গোপন আস্তানায় হানা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিএসএফ থেকে এনএসজি-এর হিরো: ২৬/১১-এর তাজ হোটেল অভিযানে ছিল সরাসরি অংশগ্রহণ
মাত্র দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেও বিশাল ফিটনেসের জোরে বজরং সিং প্রথমে বিএসএফ-এ যোগ দেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে তিনি পাঞ্জাব, অসম, রাজস্থান, ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সুরক্ষা ও মাওবাদী-সংক্রান্ত অপারেশনে অংশ নেন।
এরপর দেশের সেরা সন্ত্রাস দমন বাহিনী এনএসজি-তে তিনি সাত বছর কমান্ডো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই হামলার সময় তাজ হোটেলে যে ঐতিহাসিক অভিযান হয়েছিল, তাতে এনএসজি সদস্য হিসেবে বজরং সিং সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন।
রাজনীতিতে ব্যর্থতা, অপরাধ জগতে প্রবেশ
২০২১ সালে এনএসজি থেকে অবসর নেওয়ার পরেই আসে জীবনে মোড়। প্রাক্তন এই কমান্ডো রাজ্যের একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হন। স্ত্রীর পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা তাকে স্থানীয় রাজনীতি ও অপরাধী মহলের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়। এই যোগাযোগকেই কাজে লাগিয়ে অল্প সময়েই সে গাঁজা পাচারের বড় চক্রের মূল হোতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বজরং সিং তেলেঙ্গানা ও ওডিশা থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা রাজস্থানে পাচার করত। ২০২৩ সালেও হায়দ্রাবাদে তাকে দুই কুইন্টাল গাঁজা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
রাঁধুনির সাহায্যে প্রাক্তন কমান্ডোকে পাকড়াও
আইজিপি বিকাশ কুমার জানান, “বজরং সিং একজন প্রাক্তন কমান্ডো হওয়ায় সরাসরি অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।” তাই পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়।
বজরং সিং-এর গ্রেফতারিতে পুলিশ তার রাঁধুনিকে গোপনে কাজে লাগায়। রাঁধুনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এক সপ্তাহ ধরে তার গোপন আস্তানার উপর সতর্ক নজরদারি চালায়। দীর্ঘ সপ্তাহের পরিকল্পনা এবং নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সাফল্য এসেছে বলে জানান আইজিপি।
পুলিশের দাবি, বজরং সিং-এর গ্রেফতারি রাজস্থানের মাদক চক্রকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য। প্রাক্তন কমান্ডোর এই অপরাধের পথে আসা দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলির জন্যেও এক চাঞ্চল্যকর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।