“অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট”! বাংলায় পর্যবেক্ষক দ্বিগুণ, — নির্দেশ মানবে কে?

বিধানসভা ভোটের মুখে বঙ্গ-বিজেপি এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘অধিক সন্ন্যাসী’ তত্ত্বে চরম চিন্তিত। সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যকলাপ তদারকির জন্য আগেই তিনজন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিযুক্ত ছিলেন— সুনীল বনসল, মঙ্গল পাণ্ডে এবং অমিত মালব্য। এবার আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামাল দিতে দিল্লি থেকে পাঠানো হচ্ছে আরও দু’জনকে— ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিপ্লব দেব। সব মিলিয়ে বাংলায় এখন বিজেপির পাঁচজন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক!
বঙ্গ-বিজেপির অন্দরে এখন ঘোর সংশয়, ভিন রাজ্যের এই পাঁচ হেভিওয়েট নেতা কি একসুরে বাজবেন, নাকি ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশে ভোটের মুখে কর্মীদের তাল কেটে যাবে?
তিন পর্যবেক্ষকের তিন নীতিতে হিমশিম দশা
আগের তিন পর্যবেক্ষকের মধ্যে নীতিগত ভিন্নতা নিয়ে বঙ্গ-বিজেপি নেতারা ইতিমধ্যেই হিমশিম খাচ্ছিলেন:
সুনীল বনসল: পুরোনো ঘরানার নেতা। তিনি চান, নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কম সময় কাটিয়ে মাঠেঘাটে বেশি ছোটাছুটি করুন।
অমিত মালব্য: টেক-স্যাভি নেতা। তাঁর যুক্তি, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াই রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির অন্যতম হাতিয়ার, তাই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় দেওয়া প্রয়োজন।
মঙ্গল পাণ্ডে: বিহারের রাজনীতিক। দলীয় বৈঠকে কথায় কথায় বিহার-বিজেপির রেফারেন্স টেনে আনেন বলে অভিযোগ।
এই ত্রয়ীর ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সামলে বঙ্গ-বিজেপি নেতারা কোনওমতে একটি ভারসাম্যের আবহ তৈরি করেছিলেন। এর মধ্যেই নতুন দুই ‘সন্ন্যাসী’-র আগমন।
অনিবার্য ‘ঠোকাঠুকি’র আশঙ্কা
২০২১ সালের ভোটের সময় কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং শিবপ্রকাশ পর্যবেক্ষক ছিলেন, কিন্তু নির্বাচনের মুখে নতুন করে কাউকে পর্যবেক্ষক করা হয়নি। এবার ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিপ্লব দেবকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
রাজ্য বিজেপির বর্ষীয়ান নেতারা আশঙ্কা করছেন, পুরোনো ও নতুন পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সংঘাত অনিবার্য, যার খেসারত চোকাতে হবে বঙ্গ-বিজেপিকে।
হেভিওয়েট সংঘাত: রাজ্য বিজেপির এক আদি নেতার ব্যাখ্যায়, সুনীল বনসল এবং ভূপেন্দ্র যাদব দু’জনেই বিজেপির হেভিওয়েট নেতা এবং সম্ভাব্য সর্বভারতীয় সভাপতির তালিকাতেও তাঁদের নাম আছে। ভূপেন্দ্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হলেও তিনি সংগঠনের কাজে স্বচ্ছন্দ, আর বনসল একশো শতাংশ সংগঠনের লোক। তাই তাঁদের মধ্যে ঠোকাঠুকি অনিবার্য।
বিভাগীয় বিতর্ক: যদিও ভূপেন্দ্র আর বিপ্লবকে শুধু নির্বাচন পরিচালনার কাজ পর্যবেক্ষণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে বলা হয়েছে, এবং বাকিরা সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক হিসেবেই থাকবেন। কিন্তু নির্বাচন আর সংগঠনের মধ্যে যে সূক্ষ্ম বিভাজনরেখা আছে, তা মেনে চলা পাঁচ কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের পক্ষে কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েই সন্দেহ রয়েছে।
আদি নেতার শেষ কথা: “বাংলার বিজেপি নেতারা কোন সন্ন্যাসীর নির্দেশকে বেশি গুরুত্ব দেবেন, সেটা সময়ই বলবে। অধিক সন্ন্যাসী যখন হয়েছে, তখন বিধানসভা ভোটের গাজন নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তো থেকেই যাচ্ছে!”