মহাষষ্ঠীতে স্বমহিমায় অনুব্রত মণ্ডল! গ্রামের বাড়িতে ফিরল ‘কেষ্ট মোড়ল’-এর সেই জৌলুস, মেয়ে সুকন্যাকে নিয়ে করলেন সেলফি!

দীর্ঘ প্রায় দু’বছর জেল জীবন থেকে ফিরে, এবার স্বমহিমায় গ্রামের বাড়ির প্রাচীন দুর্গোৎসবে যোগ দিলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা অনুব্রত মণ্ডল। মহাষষ্ঠীর দিন বীরভূমের নানুর থানার হাটসেরান্দি গ্রামের মণ্ডল বাড়িতে পুজোর তদারকি করতে হাজির হলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে সুকন্যা মণ্ডল।
‘বীরভূমের ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত অনুব্রত মণ্ডলের এই শতাব্দী প্রাচীন পুজো গ্রামে ‘কেষ্ট মোড়ল’-এর পুজো হিসেবেই পরিচিত। জামিনে মুক্তি পেয়ে গত বছর তিনি পুজোয় অংশ নিলেও, সেইবার ‘আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না’ বলে জৌলুস কম ছিল। কিন্তু এবার ফিরে এসেছে সেই চেনা ছন্দের অনুব্রত এবং তাঁর পুজোর বিশাল আয়োজন।
প্রতিমার সামনে মেয়ে সুকন্যার সঙ্গে সেলফি, কাদায় পড়ার স্মৃতিচারণ
ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় গ্রামে এসে অনুব্রত মণ্ডলকে দেখা গেল পুজোর আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে।
পুজোর তদারকি: তিনি প্রতিমার গয়না পরানো দেখেন এবং পুজোর ক’দিনের খাওয়া-দাওয়ার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন।
স্মৃতিচারণ: গ্রামের বাড়ির পুজো নিয়ে আবেগতাড়িত অনুব্রত বলেন, “গ্রামের বাড়ির পুজো ভালো লাগারই জিনিস। ছোটবেলায় যখন আসতাম তখন রাস্তাঘাটে প্রচুর কাদা থাকত, পুজোর দিন সেই কাদায় পড়ে যেতাম। জামা-প্যাট ভিজে যেত। কাঁদতাম। কিন্তু সে সময় আলাদা একটা এনার্জি ছিল।”
পরিবার ও ইতিহাস: তিনি জানান, তাঁদের এই পুজো কমপক্ষে ১৪০ থেকে ১৫০ বছরের পুরনো।
আশীর্বাদ: অনুব্রত মণ্ডল বীরভূমের বাসিন্দাদের মঙ্গল কামনা করে বলেন, “আমি চাই পুরো বীরভূম জেলার মানুষ ভালো থাকুক। মা যেন সবাইকে ভালো রাখেন। আমি প্রতি বছরের মতো এবারও পুজোর ৪ দিন পুজো দেব।”
এই দিন তিনি প্রতিমার সামনেই মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলের সঙ্গে সেলফিও তোলেন এবং গ্রামের বাড়িতে বসে সকলের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁকে এক ঝলক দেখতে উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
জেল থেকে প্রত্যাবর্তনে বাড়তি জৌলুস
গরু পাচার মামলায় ২০২২ সালের ১১ অগস্ট সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর আর্থিক তছরুপ মামলায় ইডি তাঁকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ ২ বছর পর ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জামিন পেয়ে তিহার জেল থেকে মুক্তি পান অনুব্রত।
জেলে থাকার কারণে ফিকে হয়ে গিয়েছিল মণ্ডল বাড়ির পুজো। কিন্তু এবার জামিন পেয়ে, পুরোনো মেজাজেই ফিরেছেন তিনি। সম্প্রতি তাঁকে দলের জেলা কোর কমিটির চেয়ারম্যান-ও করা হয়েছে। অনুব্রতর এই প্রত্যাবর্তন জেলার রাজনীতি এবং উৎসবের আবহে এক বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করেছে।