OMG! আত্মহত্যা করতে ৫৫টি পেন্সিল ব্যাটারি গিললেন মহিলা, দেখে অবাক চিকিৎসকরা

এক নারীর অপারেশন করতে গিয়ে অবাক চিকিৎসকরা। কারণ সেই নারীর পেট আর অন্ত্র থেকে মোট ৫৫টি পেন্সিল ব্যাটারি বার করেছেন তারা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন নারী নিজের ক্ষতি করার জন্য ইচ্ছেকৃতভাবে সেগুলি গিলে খেয়েছিল।
আইরিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ৬৬ বছরের আইরিশ নারী প্রচুর ব্যাটারি খেতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

কতগুলি ব্যাটারি তিনি খেয়েছিলেন তার কোনও হিসেব দিতে পারেননি। ওই নারী ভর্তি হয়েছিলেন ডাবলিনের সেন্ট ভিনসেন্ট ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি একেক সময় একটা সংখ্যা দিচ্ছিলেন। কখনই ব্যাটারির সঠিক সংখ্যা বলতে পারেননি। নারী চিকিৎসকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন বলেও মনে করছেন তারা।

হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন নিজের ক্ষতি করার জন্য বা আত্মহত্যার চেষ্টার জন্য নারী বড় ‘ডবল এ’ ব্যাটারি খেয়েছিলেন। যা তাদের কাছে পুরোপরি অস্বাভাবিক ছিল। তবে তার পেট কেটে সবকটি ব্যাটারিবার করে এনেছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন শিশুদের মধ্যে এ জাতীয় প্রবণতা থাকা। তারা খেলার ছলে অনেক সময়ই ব্যাটারি গিলে ফেলে। অনেক সময়ই যার ফল মারাত্মক হয়। চিকিৎসকরা আরো জানান, শিশুরা সাধারণত বোতাম ব্যাটারি গিলে ফেলে। কিন্তু নারী লম্বা পেনসিল ব্যাটারি খেয়ে ফেলেছিলেন। যা থেকে বিপদের আশঙ্কা ছিল অনেক বেশি।

ব্যাটারি থেকে বিপদের কারণ হল লালা আটকে থাকা ব্যাটারিতে একটি বৈদ্যুতিক প্রবাহ শুরু করে, যা একটি রাসায়নিক বিক্রিয়াকে উত্সাহিত করে খাদ্যনালীকে পুড়িয়ে ফেলতে পারে এবং গুরুতর টিস্যুর ক্ষতি এবং রক্তপাত হতে পারে। জরুরি অস্ত্রোপচার করার জন্য এ যাত্রায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।

নারীর একটি এক্সরে প্লেটের ছবি সামনে এসেছে। যাতে দেখা গেছে পেটের ব্যাটারিগুলি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টে আকটে রয়েছে। তবে কোনও ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণের পর, ডাক্তাররা নারীর ল্যাপারোটমি করেছিলেন, যেখানে সার্জনরা তার পেটের গহ্বরে প্রবেশের জন্য একটি ছেদ তৈরি করেছিলেন। তারা দেখতে পান যে ব্যাটারির ওজনের কারণে পেট নিচের দিকে টেনে নিয়ে পিউবিক হাড়ের উপরের অংশে প্রসারিত হয়ে গেছে। তারপরে তারা পেটে একটি ছোট গর্ত কেটে অঙ্গ থেকে ব্যাটারিগুলি সরিয়ে দেয়।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *